সময় সংবাদ

বিজিবি নিয়ে হাইকোর্টের সাত দফা সুপারিশ….

বিজিবির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না করা,বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন অসন্তোষ থাকলে তা দ্রুত নিরসন করা সহ সাত দফা সুপারিশ দিয়েছেন, হাইকোর্ট।এছাড়া পিলখানা হত্যার আগে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করা উচিৎ বলেও মনে করেন আদালত।পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে উচ্চ আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।এছাড়া আদালতের পর্যবেক্ষণে ঘুরে ফিরে পিলখানা হত্যার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাহিরের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে।

পিলখানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে সময় লেগেছে দুইদিন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফৌজদারি এ মামলার রায়কে ঘিরে আগ্রহের কমতি ছিলনা কারো। হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ জনাকীর্ণ আদালতে দশহাজার পৃষ্ঠার রায়ের মূল অংশ পড়ে শোনান। রায়ের অধিকাংশ সময় জুড়ে উঠে এসেছে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ। মোটা দাগে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন,দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি কুচক্রী মহল এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধন জুগিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ।

সুশৃঙ্খল বাহিনী এই কলঙ্কিত ঘটনা কিভাবে ভুলবে তারও গাইড লাইন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আদালত তার রায়ে সাত দফা সুপারিশ করেছেন।সুপারিশে এমন কোন কর্মসূচিতে বিজিবিকে অন্তর্ভুক্ত না করা যাতে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।অভ্যন্তরীণ যেকোন সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং আর্থিক যেকোন সুবিধা দ্রুত নিরসনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই বাহিনীর যারা সদস্য আছেন একের ভিতরে অন্যদের প্রতি সদ্ভাব যাতে বজায় রাখা যায় তা সুপারিশে বলা হয়েছে। এই বাহিনীর অভাব অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অনতি বিলম্বে সমাধান করবে। যদি কন গোপন অভিযোগ থাকে তাহলে সেই অভিযোগগুলো বের করে দ্রুত সমাধান করার কথা বলা হয়েছে।

হাইকোর্ট তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীকে সারা জীবন বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আদালত যে সাতটি সুপারিশ দিয়েছেন এই সাতটি সুপারিশ মেনে চলা হলে এই বাহিনী আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আদালত তার সবশেষ সুপারিশে পিলখানা হত্যার আগাম তথ্য দিতে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের কথা বলেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিডি আরের যে একটা সিকিউরিটি ইউনিট ছিল তাদের কার্যক্রম সম্বন্ধে খুঁজে বের করার জন্যে কেন তারা উপযুক্ত সময়ে সরকারকে তথ্য দিতে পারলো না এগুলো খুঁজে বের করার জন্যে একটা কমিটি তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তি হলেও দুই পক্ষ চাইলে আপিল বিভাগে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র- সময় TV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close