সময় সংবাদ

টাকার ব্যাগ পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন এই চা-বিক্রেতা!…..

পেশায় চা-বিক্রেতা। দোকানের ভিতর ছোট্ট একটা বোর্ড। তাতে লেখা ‘সততাই মূলধন’। সেটা যে কথার কথা নয়, তা প্রমাণ করেছেন শ্রীমন্ত সাঁতরা। ছোট ব্যবসায়ী, খুব একটা স্বচ্ছলও বলা চলে না। কিন্তু তাঁর সততা সত্যিই কুর্নিশ করার মতো। একবার নয়, বেশ কয়েকবার সততার নজির গড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার গোপালপুর গ্রামের এই যুবক।

শনিবারও তাঁর দোকানে ফেলে যাওয়া টাকার পুঁটলি ফিরে পেলেন লরিচালক বাপি বাগ। বীরভূম জেলা থেকে পাথর বোঝাই করে রায়নার শ্যামসুন্দরে দিতে এসেছিলেন তিনি। পাথর নামিয়ে দেওয়ার পর মূল্য বাবদ পাওয়া ৪৩ হাজার টাকা নিয়ে বীরভূমের বোলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। ওই টাকা একটি গামছার মধ্যে পুঁটলি করে রেখে দেন। পথে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডে লরি দাঁড় করিয়ে চা-জলখাবার খেতে ঢোকেন শ্রীমন্তর দোকানে। মুড়ি-চা খেয়ে লরি নিয়ে চলে যান বাপি। আর ফেলে যান গামছার পুঁটলিটি। সেটি পড়ে থাকতে দেখে তা রেখে দেন শ্রীমন্ত।

ঘণ্টাখানেক পর তা নিয়ে বাড়ি চলে যান। এর ঘণ্টা দু’য়েক পড়ে বাপি ফিরে আসেন শ্রীমন্তর চায়ের দোকানে। কিন্তু তাঁকে দেখতে পাননি। কর্মীরা জানান, শ্রীমন্ত বাড়ি গিয়েছে। তখন বাপি চলে যান শ্রীমন্তর বাড়িতে। গামছায় বাঁধা টাকার কথা জানান শ্রীমন্তকে। কত টাকা, কত টাকার নোট প্রভৃতি খুঁটিয়ে জেনে বাপির হাতে তা তুলে দিয়েছেন শ্রীমন্ত। গ্রামবাসীরা সাক্ষী থাকলেন সেই ঘটনার। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে খুশি লরিচালক। তিনি বলেন, “এইভাবে এতগুলো টাকা হারিয়ে যাওয়ায় খুবই কষ্ট হচ্ছিল। মালিককে গুণগার আমাকেই দিতে হত। কিন্তু শ্রীমন্তবাবুর সততার জন্য আমি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলাম। এই যুগেও এমন মানুষ রয়েছেন যাঁদের সততার প্রশংসা মুখে করা সম্ভব নয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা অশোক সাঁতরা জানান, শুধু এদিনই নয়, আগেও সততার নজির গড়েছন শ্রীমন্ত। প্রায় সাত মাস আগে বাপি বাগেরই এক বন্ধু দামি মোবাইল ও ১৭ হাজার টাকা ফেলে গিয়েছিলেন তাঁর দোকানে। পরে তিনি তা ফেরত নিয়ে যান। বছর খানেক আগে রায়নার নন্দনপুরের এক ধান ব্যবসায়ী চা খেতে এসে শ্রীমন্তর দোকানে এক লক্ষ টাকা ফেলে গিয়েছিলেন। সেই টাকাও পরদিন ফিরে পান সেই ব্যবসায়ী। অশোকবাবু বলেন, “এই সততাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close