জাতীয়

মনপুরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে প্রভাবশালীদের মাছ চাষ

ভোলার মনপুরার মূল ভুখন্ডের উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ক্রসড্যাম (আলম বাজার) সংলগ্ন রাস্তার দুপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলরে কয়েক হাজার কেওড়া গাছ কেটে নিয়ে গেছে প্রভাবশালী চক্রটি। কেওড়াবন কেটে বন উজার করে প্রভাবশালী চক্রটি বাঁধ দিয়ে ঘের করে মাছের চাষ করছেন। এই নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী চক্রটি হুমকি-ধামকী দেয় বলে নাম না প্রকাশ শর্তে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে বনবিভাগে কর্মরত অসাধু একটি চক্র প্রভাবশালীদের সাথে জড়িত বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।

গত কয়েকদিন স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই সংরক্ষিত বনাঞলে শত শত হরিণের অবাধ বিচরন ছিল। আজ হরিণের জন্য সংরক্ষিত সেই বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। দেশ বিদেশ থেকে প্রতিদিন মায়াবি হরিণ দেখার জন্য বিভিন্ন জেলা উপজেলার থেকে অসংখ্য পর্যটক আসত। আজ হরিণ প্রায় বিলুপ্তির পথে। একটি চক্রটি ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে, জবাই করে মাংস বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এই বনে এখন হরিণ নেই বললে চলে। দেশি-বিদেশী পর্যটক হরিণ দেখতে এসে ফিরে যাচ্ছে। চক্রটি হরিণ ধরে ক্ষান্ত হয়নি, বনাঞ্চলের গাছ কেটে উজাড় করে বনের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিনের বেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে বাঁধ দিয়ে ঘের করছে প্রভাবশালী চক্রটি। এতে ঘেরের মাছ ছাড়ার জন্য পানির পাম্প দিয়ে পানি দিচ্ছে চক্রটি। এছাড়াও বনের ভিতরে একাধিক পুকুর খনন করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। এছাড়াও বনের ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে কেটে নেওয়া গাছের অসংখ্য গোড়া পড়ে রয়েছে। কাটা কেওড়া গাছ গুলি একটি পুকুরে জমা করছে প্রভাবশালীরা। বনবিভাগ দেওে না দেখার ভান করছেন।

সদ্য জাতীয়করন অর্ন্তভূক্ত হওয়া হাজিরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, বনবিভাগের উদাসীনতা ও প্রশাসনের নিরবতার কারনে প্রভাবশালীরা দিনে-দুপুরে ক্রসড্যাম সংলগ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে উজার করছে। এতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পর্যটন শূন্য হয়ে পড়ছে মনপুরা। এছাড়াও পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে নদীভাঙ্গন ব্যাপক বেড়ে গেছে।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল লিজ নেওয়ার দাবী করে আবুল কালাম জানান, আমরা ৭-৮ জন কোড়ালিয়া বিট থেকে তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি।

কোড়ালিয়া বিট কর্মকর্তা সোয়েবুর রহমান জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল লিজ দেওয়ার এখতিয়ার কোন বিট কর্মকর্তার নেই। আমরা কাউকে লিজ দেয়নি। তবে কারা এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বনাঞ্চলের ভিতরে পুকুর খননকারী মানিক জানান, বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছি।

এই ব্যাপারে উপজেলা বনবিভাগের রেঞ্চ কর্মকর্তা সুকুমার শীল জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পুকুর ও ঘের করতে কাউকে লিজ বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রভাবশালীরা জোর করে বনের ভিতরে ঘের ও পুকুর খনন করছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হাওলাদার জানান, বনবিভাগের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close