সময় সংবাদ

মিরপুরে মসজিদ ভাংচুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য….

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানির মেঘনা ভবন সোসাইটি একটি বিশাল আবাসন। ওই ভবনটিতে ২০৯টি পরিবার বসবাস করেন।

Personalize This Content
From The Web
15 Worst Tourist Photos Ever Captured On Camera
Ironic and Perfectly Timed Pics
Sponsored by Revcontent
রাজউক অনুমোদিত ভবনটির ৪র্থ তলায় রয়েছে মেঘনা ভবন নামে একটি জামে মসজিদ। ওই মসজিদটি ভেঙ্গে বিউটি পার্লার করার পরিকল্পনা করেন মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যান মুনসিফ আলী।

৭ ডিসেম্বর বৃহঃপতিবার মাল্টিপ্লান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যান মুনসিফ আলী ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দুপুর ২টার দিকে মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মসজিদের মেহরাবসহ জানালা-দরজা ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। এর প্রতিবাদে মেঘনা ভবনের সামনে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মিরপুরবাসী মসজিদটিকে রক্ষা করার জন্য মাল্টিপ্লান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যান মুনসিফ আলী ও তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন করেন।

সুত্রে জানা যায়, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে, জি ব্লকে শাহআলী থানাধীন মেঘনা ভবনের সদস্যদের ৪র্থ তলাতে রয়েছে মেঘনা ভবন জামে মসজিদ। কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব এবং সোসাইটির অফিস নিয়ে মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির সাথে মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল।

গত ৬ জুন ২০১৭ ইং তারিখে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটের সময় ভবনের ৪র্থ তলায় মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর পক্ষে কিছু লোকজন অনাধিকার প্রবেশ করে মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির লোকজনকে মারপিট শুরু করে এবং মসজিদ ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করলে মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির পক্ষে মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

এতে মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির লোকজনের সাথে মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর মধ্যে ঘোর শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে ৭ ডিসেম্বর বৃহঃপতিবার বেলা ২টার সময় মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যানের নির্দেশে কিছু সন্ত্রাসী আবার মসজিদটি ভাংচুর করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির মেহরাব ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়, মসজিদের কোরআন শরীফ, জায়নামাজ, ৪০টি সিলিং ফ্যান, হিসাবের খাতা, আলমারী, কম্পিউটার জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় ও মসজিদের ক্যাশ থেকে ৫ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর সন্ত্রাসী বাহিনীকে মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির লোকজন বাধা দিলে তাদের মারধর করে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে ২১ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে শাহ আলী থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ২১ জনের মধ্যে রয়েছে (১) মো. জাহাঙ্গীর কবির, পিতা- মো. জালাল উদ্দিন হাওলাদার (২) মো. সুমন আলী, পিতা- মৃত জোসেফ আলী (৩) মো. মাহবুব আলম, পিতা- মোতাহার আলী খান (৪) মো. ফরিদ, পিতা- মৃত আব্দুর রশিদ (৫) মো. মতিউর রহমান, পিতা- মো. মকবুল হোসেন (৬) রাশেদ আলম, পিতা- আব্দুল খালেক (৭) আব্দুর রহমান, পিতা- মফিজুল ইসলাম (৮) কাওছার হোসেন, পিতা- আব্দুর সাত্তার গাজী (৯) মিজানুর রহমান, পিতা- আব্দুল মোতালেব হাওলাদার (১০) কামাল হোসেন, পিতা- ইদ্রিস খান (১১) মো. ইয়াকুব আলী, পিতা- সাহিদার রহমান (১২) মো. সোহান, পিতা- টেন্যু আকন্দ (১৩) সাখাওয়াত হোসেন, পিতা- হাবিবুল্লাহ (১৪) সুজন হোসেন পিতা- জাকির হোসেন (১৫) মো. হান্নান হোসেন, পিতা- জাকির হোসেন (১৬) সাজিকুল ইসলাম, পিতা- মৃত আব্দুল বারেক (১৭) ইউসুফ আহম্মেদ, পিতা- মৃত গোমেজ আলী (১৮) মো. জামাল হোসেন, পিতা- আব্দুর রউফ (১৯) আমির হোসেন, পিতা- মৃত খোরশেদ আলী (২০) ইমদাদুল হক বাদল, পিতা- নুরুল ইসলাম হাওলাদার (২১) মো. নাসির উদ্দিন, পিতা- মো. মেকেন্দার খান।

এলাকাবাসি জানান, মাল্টিপ্লান লিঃ কোম্পানীর মেঘনা আবাসন নির্মানের পর ওই ভবনের মুসলিম বাসিন্দারা নামাজ আদায়ের জন্য ওই ভবনের ৪র্থ তলাতে রাজুক অনুমদিত প্ল্যালন অনুযায়ী একটি মেঘনা ভবন মসজিদ নির্মাণ করে নামাজ আদায় করে আসছিলেন। মাল্টিপ্লান লিঃ কোম্পানী টাকার মোহনা সামলাতে না পারে আল্লাহর ঘরটি ভেঙ্গে মার্কেট প্লেস করার জন্য পরিকল্পনা করেন। তাদের প্লান অনুযায়ী ৭ ডিসেম্বর বৃহঃপতিবার বেলা ২টার সময় মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যান এর পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মসজিদটিকে ভাংচুর করে এবং ভাংচুর করার সময় শাহআলী থানা পুলিশ ২১জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার কয়েকজন বাসিন্দাকে হাত করে লেবার দিয়ে মসজিদের ইটের ভিত্তি তুলে ফেলেন। পরে এর প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে মেঘনা আবাসন প্রকল্প এলাকার মানুষ। তারা বিক্ষোভ মিছিলসহ মাল্টিপ্ল্যান লিঃ কোম্পানীর চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে।

মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদিকা মামনি ভুইয়া মনি জানান, আমার শরীরের এক বিন্দু রক্ত থাকতে ওই জামায়াত-শিবিরের অর্থদাতা মুনসিফ আলীকে মসজিদ ভাংচুর করতে দেবো না। আমাদের মেঘনা ভবন ফ্ল্যাট ও অনার্স সোসাইটির অফিসের মধ্যে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও ভাংচুর করেছে। তাদেরকে আমরা অাইনের আওতায় দেখতে চাই। আমাদের বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ, মুসলিমদের সেরা ঘর হচ্ছে মসজিদ, আর এই দেশে যদি কেউ আল্লাহর ঘর ভাংচুর করে মার্কেট, বিউটি পার্লার করার চিন্তা ভাবনা করে তাহলে আমরা তাদেরকে মোকাবেলা করতেও প্রস্তুত আছি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close