অন্যান্য

টাকায় বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি, কনস্টেবল আটক

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় টাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে আব্বাস আলী (৫৫) নামে রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্যকে আটক করেছে জনতা।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার পঞ্চবটী বউবাজার এলাকায় একটি দোকানে মুরগি কিনতে গেলে ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে।

খবর পেয়ে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। বিক্ষুব্দ জনতাকে আশ্বস্ত করা হয় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানায়, বউবাজারের একটি মুরগির দোকানে মুরগি কেনেন তিনি। এ সময় তিনি মুরগির মূল্য বাবদ দোকানিকে ১৩৫ টাকা পরিশোধ করেন। এর মধ্যে একটি ৫০ টাকা, দুটি ২০ টাকা, চারটি ১০ টাকা ও একটি পাঁচ টাকার নোট। নোটগুলো হাতে নিয়ে দোকানি দেখেন, ওই নোটগুলোতে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিগুলো বলপয়েন্ট কলমের কালি দিয়ে বিকৃত করা। তখন ওই দোকানি স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ সদস্য আব্বাস আলীকে আটক করে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

ওই মুরগী বিক্রেতার অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার এই কনস্টেবল তাঁদের দোকান থেকে মুরগি কিনে এমন বিকৃত নোট দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মমিনুল হক রাজুকে তখনই জানিয়ে রাখেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আব্বাস আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি। আমি কেন বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করব? যে কেউ বিকৃত করে থাকতে পারে। আমি এগুলো লক্ষ করিনি। মুরগি কিনে নোট দেওয়ার পর দোকানিরা আমাকে আটক করে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এখানে আগের যে নোটগুলো দেখানো হয়েছে, এগুলো আমার দেওয়া নয়। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এরকম অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে ভৈরব পৌরসভার কাউন্সিলর মমিনুল হক রাজু বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমার কাছে দোকানিরা অভিযোগ করে আসছিলেন। আজ সকালে ওই কনস্টেবলকে আটক করে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসে লোকজন। আমি বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. সায়দুল্লাহ মিয়াকে ফোনে অবগত করি এবং ভৈরব জিআরপি থানার ওসিকেও বিষয়টি জানাই। খবর পেয়ে ওসি আবদুল মজিদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আদম আলীকে আমার কার্যালয়ে পাঠিয়ে আটক কনস্টেবলকে নিয়ে যান। আশ্বস্ত করেন এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

ভৈরব জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বলেন, স্থানীয় দোকানিরা কনস্টেবল আব্বাস আলীকে আটক করার পর কাউন্সিলর মমিনুল হক রাজু আমাকে অবগত করেন। আমি আমার লোক পাঠিয়ে তাঁদে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে অভিযুক্ত আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close