অন্যান্য

লটারির টিকিট কেটে মাটির ঘরের মালিক এখন কোটিপতি

চন্দ্রজিৎ মজুমদার, কান্দি: স্বর্ণযুগের বিখ্যাত বাংলা হাসির ছবি ‘ভানু পেল লটারি’তে ভানু এক লাখ টাকা পেয়েছিলেন। তাঁর ফিলোজফার কাম গাইড জহর রায় অভিন্নহৃদয় বন্ধুকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন লটারির টাকা নিতে। ভানু-জহর জুটির সেই অমর রসায়ন এখনও সিনেমা রসিকদের মনে গেঁথে রয়েছে। সেলুলয়েডের সেই সাদাকালো দৃশ্য দেখা গেল মুর্শিদাবাদের কান্দিতে। সিকিম রাজ্য লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেলেন সমীর শেখ। এক্ষেত্রে জহরের ভূমিকায় তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু প্রেম সূত্রধর। শনিবার এই ঘটনায় গোটা কান্দিজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে সমীর ও প্রেম টিকিট নিয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

[ব্যবসার জগতে চিরস্মরণীয় এই বাঙালি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানেন?]

‘হরিহর আত্মা’ দুই বন্ধু লটারিতে কোটিপতি হয়ে একে অপরে টাকা ভাগ করে নিতে চান। দুজনে পেশায় সামান্য কাঠ ব্যবসায়ী। লটারিতে ২ কোটি ২ লক্ষ টাকা পেয়ে কান্দির খড়গ্রাম থানার বাসিন্দা সমীর শেখ ও প্রেম সূত্রধর একেবারে বাবু বনে গিয়েছেন। এতদিন যাঁরা দুই বন্ধুকে সেভাবে পাত্তা দিতেন না, আজ লটারি পাওয়ার গুনে তাঁরাও এই দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। খড়গ্রামের মীরপাড়ার বাসিন্দা সমীর বিপিএল শ্রেণির পরিবার। মাটির বাড়িতে দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাঁর বাস। একই অবস্থা খড়গ্রামের তুরিগ্রামের বাসিন্দা প্রেম সূত্রধরেরও। প্রেমেরও মাটির বাড়ি। দু’জনেই কাঠের সামান্য ব্যবসা করে দিন গুজরান করেন। বহু দিন ধরে তাদের বন্ধুত্ব। দু’জনের পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর ও প্রেম বহুদিন ধরে লটারির টিকিট কাটেন। এর মধ্যে সমীর আবার কিছুদিন আগে লটারিতে তিন লক্ষ টাকা পেয়েওছিলেন। বন্ধু প্রেমকে টিকিট কাটার অভ্যাস ছাড়তে বারণ করেছিলেন সমীর। আর তাতেই বাজিমাত। এভাবে দুই বন্ধুর কপাল ফেরায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও বেজায় খুশি। তবে এই বিপুল পরিমাণ টাকার কিছু অংশ দু’জনেই গ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছেন। সমীর শেখের কথায়, “সব টাকা নিজের জন্য খরচ করব না। কিছু টাকা এলাকার উন্নয়নেও ব্যবহার করব।” ভাগ্যগুণে কোটিপতি হয়ে লাজুক হেসে প্রেম বললেন, “ গরিব মানুষের জ্বালা বুঝি। এলাকায় সামাজিক কাজে কিছু টাকা দেব। গরিব ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য কিছু টাকা খরচ করব।”

[শিশুর ক্যানসারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, ফের সক্রিয় অসাধু চক্র]

গত শনিবার সকালে ব্যবসার কাজে এসে দু’জনে এক ঘর ৫০০ সেমের সিকিম লটারির টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু বিকেলের পরেই এমন গণেশপ্রাপ্তির কথা বোধহয় দু’জনে ভাবতেই পারেননি। সমীর শেখের কথায়, “ আমার কাছে মোবাইলে খবর যায়। আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি কোটি টাকা লটারিতে প্রথম প্রাইজ লেগেছে। পরে প্রেম আমাকে এই খবর দেয়। এরপর আমরা টিকিট নিয়ে পুলিশের কাছে যাই।” ঘোর যেন তাদের কাটছে না। আচমকা আলোকপ্রাপ্তিতে গোটা কান্দির আলোচনার কেন্দ্রে দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close