অন্যান্য

খ্রিষ্টপূর্ব সময়ের প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীর নিদর্শন মিলেছে মহাস্থানগড়ে…

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে ২ হাজার ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। সেই সঙ্গে খ্রিষ্টপূর্ব সময়ের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীও পাওয়া গেছে এবারের খননে। প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী নিশ্চিত করেছে মহাস্থানগড় সেই সুঙ্গ যুগেও ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে ছিল সমৃদ্ধ। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থান গড়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননের সময় এসব নিদর্শনের সন্ধান মেলে।

মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্ন নিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খনন কাজ পরিচালনা করে আসছে। মহাস্থান দুর্গনগরীর মাঝামাঝি এলাকা বৈরাগীর ভিটা এবং লাইয়েরকুড়ি মাঠে এই খনন কাজ চালানো হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন।

মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এসএম হাসানাত বিন ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এখানে খননের কারণে আমরা অনেক পুরাতন ইতিহাস খুঁজে পাই। বাইরের পর্যটকরাও বুঝতে পারেন।

তবে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস এখনো অনেকের অজানা। খননের মাধ্যমে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস খুঁজে পেতে খনন কাজ অব্যাহত রাখার দাবি এলাকাবাসী এবং দর্শনার্থীর।

এলাকাবাসী বলেন, এই খনন কাজ নিয়মিত চালিয়ে ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে চিহিৃত করার জন্য এ খনন কাজ করা প্রতিবছরই চলে। এবার খননকাজে মিলেছে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দের ছাপাঙ্কিত ব্রোঞ্জের মুদ্রা, সুঙ্গযুগীয় টালির (টাইলস) ভগ্নাংশ, উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র, বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ।

প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক মোছা: নাহিদ সুলতানা বলেন, প্রাচীন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা প্রতিবছরই এখানে খনন করছি। আমরা যতই গভীরে যাই ততোই মজার কিছু পাওয়া যায়।

গেল ২৮ অক্টোবর থেকে ১৮তম খনন কাজ শুরু হয় মহাস্থান গড়ে যা এখনো চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close