ধর্ম ও জীবন

পশ্চিমবঙ্গের বইয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কাল্পনিক ছবি!, ক্ষমা চাইলেন প্রকাশক…

আন্তর্জাতিক ডেস্ক– ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শিশু বিকাশ পাবলিকেশনের দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কাল্পনিক ছবি ছাপিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। খবর- টিডিএন বাংলা ও দিনদর্পন

ছবি- কাবা শরীফ
স্থানীয় পত্রিকায় খবরে বলা হয়, শিশু বিকাশ পাবলিকেশনের দ্বিতীয় শ্রেণীর গৃহপাঠ্য পুস্তুক ‘মানব সভ্যতার ইতিহাস’ বইয়ে মুহাম্মদ (সা.) এর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বইয়ের রচয়িতা সাবেক প্রধানশিক্ষক শ্রী গোষ্ঠবিহারী কারক। সেখানে একটি অধ্যায় রয়েছে হযরত মুহাম্মদ নামে। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার দেখা দিলে তারা ক্ষমা চেয়ে নেন ও সমস্ত বই বাজার থেকে তুলে নেবার বিজ্ঞপ্তি দেন।

এদিকে প্রজ্ঞাভবন নামের অন্য অারেকটি প্রকাশনী সংস্থার ছাপানো চতুর্থ শ্রেণীর একটি বইয়ে মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর কাল্পনিক ছবি ছাপিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে এই প্রকাশনীও তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়।

ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে অধ্যায়টির নাম হযরত মুহাম্মদ রাখা হয়েছিল। মুহাম্মাদ (সা.) এর কাল্পনিক ছবি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রথমে পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর কাছে যান। তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

পরে প্রকাশনীটির তরফ থেকে ইসলামী দলের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে দাবি করা হয়, মুহাম্মদ সা এর কল্পিত ছবি তাঁরা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, তারা জানতো না যে এই কাল্পনিক ছবি আসলে ছাপানো যায় না। এই বইগুলি তারা বাজার থেকে তুলে নিচ্ছেন এবং সেই বইটি নতুন করে ইসলাম ধর্মের পবিত্র কাবা শরীফের ছবি দিয়ে পুনরায় ছাপানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামে ছবি অঙ্কন করা হারাম এবং ছবি অঙ্কনকারীর শাস্তি জাহান্নাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ সা.।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আমাশ [রা] মুসলিম [রা] থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরুকের [রা] সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম, তিনি তার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, তিনি বললেন, আমি হজরত আব্দুল্লাহর নিকট শুনেছি রাসুল [স] বলেছেন, ‘নিশ্চয় মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তায়ালা কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করে ।’
(বুখারি, মুসলিম)
হজরত আয়েশা [রা] বর্ণনা করেন যে, রাসুল [স] ঘরে থাকা প্রাণীর ছবি বা ছবিযুক্ত সকল জিনিস ধ্বংস করে ফেলতেন। (মিশকাত) আর রাসুল [স] যেহেতু আল্লাহর অহি ছাড়া কখনো কোনো কথা বলেননি। সুতরাং রাসুলের [স] নিষেধ করা মানে প্রকারান্তরে আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়া। যেমন কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, যতক্ষণ না তার প্রতি অহি অবতীর্ণ হয়।’
(সুরা নাজম, আয়াত ৩)।
সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close