জাতীয়

জাতির উদ্দেশ্যের ভাষণে শেখ হাসিনা যা বললেন….

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি একথা জানান। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে আগামী নির্বাচনে সব দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

২৬ মিনিটের এ ভাষণে সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ভাষণে ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এমন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে। এ ব্যাপারে জনগণকে সর্তক থাকতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। আর সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচন কালীন সরকার গঠিত হবে।

আর সেই সরকার নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দিবেন। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশনের সকল নিবন্ধিত দল একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে সকলেই সচেষ্ট হবেন।

এছাড়াও কোন দল আগামী নির্বাচনে সামনে রেখে দেশে অরাজক পরিবেশের সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করলে আপনারা সজাগ থাকবেন। নির্বাচন বয়কট করে নির্বাচন প্রতিহত নামের এ দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করলে এটা দেশের জনগণ মেনে নিবে না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলো। নির্বাচনের দিন তারা ৫৮২টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করেন প্রিজাইডিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তাদের। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল, এই তিন বছরে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের হাতে ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ী ও ২৯টি রেল গাড়ি এবং ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ভাঙচুর করানো হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পুড়ানো হয় কোরআন। তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি রাস্তা গাছ ও গবাধি পশু।

আমরা ২০১৪ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অব্যাহত বজায় রেখেছি। ৯ বছর একটানা ক্ষমতা ছিলাম বলে দেশকে উন্নত করেছি। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল ছিল। আর জনগণই এ সুফল ভোগ করছেন।

বাংলাদেশ এরইমধ্যে নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু ৫৪৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ডলারে এক হাজার ৬১০ ডলারে পরিণতি হয়েছে। দারিদ্রের হার ২০০৫-০৬ সালে অর্থবছরে ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। সেখান থেকে ২২ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, এই বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন হতে হবে। আমরা বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে চলবো। ২০২১ সালে দেশ মধ্যআয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালে মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলা তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close