সময় সংবাদ

আড়াই লাখ মানুষের জন্য ৩ চিকিৎসক!

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। ফলে স্বাস্থ্য সেবা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাবসেন্টারসহ ২৯টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও এর বিপরীতে আছেন মাত্র তিনজন। উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার জনসাধারণের জন্য মাত্র তিনজন চিকিৎসক কর্মরত থাকায় চিকিৎসা সেবায় বেহাল দশা দেখা দিয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, অ্যানেসথেসিয়া, পেডিয়াট্রিক্স, অর্থপেডিক্স, কার্ডিও, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন এবং সহকারী সার্জন ইনডোর, ইমার্জেন্সি, প্যাথলজিস্ট, ইউনানী ও ডেন্টাল সার্জনসহ ২১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনজন। তারা হলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুর এ মোরশেদ, সহকারী সার্জন (ইমার্জেন্সি) ডা. রুহুল আমিন, সহকারী সার্জন (প্যাথলজিস্ট) ডা. আরিফুজ্জামান।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকদের তালিকা অনুযায়ী দেখা যায় আরও চারজন চিকিৎসকের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পোস্টিং ও যোগদান রয়েছে। এর মধ্যে ডেন্টাল সার্জন ডা. ফেরদৌস আমিন ২০১০ সালের ১ ডিসেম্ব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। জুনিয়র কনসালটেন্ট (পেডিয়াট্রিক্স) ডা. রতন কুমার সিংহ ২০১৩ সালের অক্টোবরের ১০ তারিখে যোগদান করলেও তখন থেকে প্রেষণে নওগাঁ সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. শামিমা সুলতানা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকা অবস্থায় তাকে নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। ছুটি শেষে তিনি নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ আবাসিক চিকিৎসকের পদটিও খালি রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

অপরদিকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গুলিতে একটি করে মোট আটটি মেডিকেল অফিসার ও একটি করে সাব-অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ রয়েছে। উক্ত স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গুলিতে আটটি মেডিকেল অফিসার পদের স্থলে একটিতেও মেডিকেল অফিসার নেই। তার মধ্যে মাত্র চাকরাইল স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে একজন সাব-অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছে। ভান্ডারপুর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে সাব-অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে শাহিদা নামে একজনের যোগদান রয়েছে। কিন্তু তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। বাকি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোতে ফার্মাসিস্ট দিয়ে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ চলছে। এভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯টি পদের স্থলে মাত্র তিনজন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন এবং ২ জন সাব-অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকদের পোস্টিং ও প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে চাকরি করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্তু বিসিএস পাস করার পর চিকিৎসকদের গ্রামে পোস্টিং দেয়া হলেও তারা যোগদানের কিছু দিন পর তদবির করে বদলি হয়ে শহর মুখী হন। এছাড়াও রয়েছে প্রেষণের ব্যবস্থা। ফলে চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে না থাকায় গ্রামের মানুষরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। আবার টাকা খরচ করে শহরের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করার মতো অনেকেরই সাধ্য থাকে না।

উপজেলার তিলাবদলী গ্রামের খালেকুজ্জামান লিটন বলেন, গ্রামের মানুষ বেশির ভাগ দরিদ্র ও অসহায়। তাই তারা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিক ও শহরের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব নয়। তাই এলাকাবাসীর সুবিধার্থে সুচিকিৎসার জন্য এখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার।

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুর মোরশেদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট। ফলে চিকিৎসা দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি বছর যে পরিমাণ চিকিৎসক অবসরে যান সে পরিমাণ নিয়োগ হয় না। ফলে চিকিৎসক সংকট থেকেই যায়। এখানে যে কয়জন কর্মরত আছেন তাদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা কোনো মতো চালিয়ে যেতে হচ্ছে।এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, গোটা জেলাতেই চিকিৎসক সংকট। অতি দ্রুতই এ জেলায় চিকিৎসক নিয়োগ হবে। তখন চিকিৎসা সেবার মান ভালো হবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read In English»
Close