অন্যান্য

বন্যার আশঙ্কায় ৩৭ জেলা, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

অতি বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির কারণে এ বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের ৩৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহের পাঁচ দিনই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল।

ওই বৈঠকে সেনা বাহিনী ও নৌ বাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবারও বৈঠক করেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি বার্তা দেওয়া হয়েছে দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককের কাছে। তাদের বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

বন্যার সময় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব জেলার ডিসির ত্রাণ ভাণ্ডারে দুই লাখ টন চাল, নগদ ৫ লাখ টাকা ও দুই বান্ডিল ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শীতের কম্বল দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থা অধিদফতরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জেলা উপজেলার স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ভবনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য বলা হয়েছে, যেন বন্যা দেখা দেওয়া মাত্রই বন্যাকবলিত মানুষ জনকে আশ্রয় দেওয়া যায়।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ থেকে ৭ মে—এই চারদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। অতিবর্ষণে পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা রয়েছে।

গতবছর পাহাড়ধসে পার্বত্য অঞ্চলে ১৬৬ জন মারা গেছেন। অতি বর্ষণ ও ভারী বর্ষণে এ বছরও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় জরুরি সভা করে গত ২২ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই পাঁচ দিন টানা বৈঠক করে জরুরি করণীয় নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল—এই দুই দিনে ঢাকায় ১৪৬ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৯৯ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০৭ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১১২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ কারণে অধিক বৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যেই অতি বৃষ্টির ফলে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ওই সব অঞ্চলের মাঠের ফসল কেটে ঘরে তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যেন মাঠের ফসল জরুরি কেটে ঘরে তুলে আনেন, সেজন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলাপ্রশাসকদের তত্ত্বাবাধানে মাইকিং করা হয়েছে। তাই এসব জেলার কৃষকরা ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলে এনেছেন।

এসব জেলার ডিসি অফিসের বরাত দিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মাঠের ফসল কেটে নেওয়া হয়েছে। এবছর এ সব জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *