বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পঞ্চমবারের মতো পেছাল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ

বহুল প্রতিক্ষিত বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের তারিখ আবারো পেছাল। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের তারিখ পেছাল।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের তারিখ পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে এবার পেছানোর পর উৎক্ষেপণের নতুন তারিখ এখনও জানানো হয়নি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এ স্যাটেলাইটের প্রথম উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারিত ছিল। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয়, এপ্রিলের ৫ তারিখ তৃতীয় ও ২৪ এপ্রিল চতুর্থবারের মতো উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বারবারই তারিখ পেছানো হয়।

যদিও চতুর্থবারের মতো পেছানোর পর ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট : সম্ভাবনার মহাকাশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ৭ মে নতুন তারিখের কথা জানিয়েছিলেন প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তখন মোস্তাফা জব্বার বলেছিলেন, ‘আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এমনকি কার্ড ছাপার কাজও সেরে ফেলা হয়েছিল। তবে আমরা জানতাম উৎক্ষেপণ বিভিন্ন কারণে পেছাতে পারে। তাই আমরা এর জন্যও প্রস্তুত ছিলাম।’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্সের লঞ্চ প্যাড হতে উড়বে স্যাটেলাইটটি। জানা গেছে, ৭ মে উৎক্ষেপণের দিন মাথায় রেখে ২ মে অর্থাৎ বুধবার ছোট একটা পরীক্ষা চালানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাটাও হয়নি।

এই পরীক্ষার জন্য ৪ মে শুক্রবার দিনক্ষণ ঠিক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’। এই পরীক্ষাটির পর সেটার তথ্য বিশ্লেষণ করতে আরো ৩/৪ দিন সময় লাগে। ফলে গবেষণা শেষ হতেই ৭ মে পার হয়ে যেতে পারে। এরপর তারা চূড়ান্ত দিন বলবে যে, কবে এটা তারা উৎক্ষেপণ করবে।

স্যাটেলাইটটির ওজন ৩.৭ টন। সরাসরি দেখা যাবে উৎক্ষেপণের স্থান থেকে ৪ কিলোমিটার দূর থেকে। তবে মাত্র ৬-৭ মিনিট রকেটটি দেখা যাবে তার পর রকেটটি চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে।

এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০ টি ট্রান্সপন্ডার যার ২০টি আমাদের দেশের জন্য ব্যবহার করার জন্য রাখা হবে এবং বাকি ২০টি অন্যান্য দেশে ভাড়া দেওয়া হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।

২০১৫ সালের মার্চে স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য একনেক দুই হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে সরকারের এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ এবং বিদেশি অর্থায়ন এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি শেষ হতে খরচ হয় দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা এবং বাকি ২০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অর্থ সাশ্রয় হয় সরকারের।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে স্থানান্তর করা হবে। তবে স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০-২১ দিন সময় লাগবে।

এই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ইতোমধ্যে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *