জেলা সংবাদ

অবশেষে জানা গেল বগুড়ায় ধানক্ষেতে গলাকাটা চার খুনের কারন

গতকাল বগুড়ায় ধান খেতে গলাকাটা অজ্ঞাত ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর থেকে রহস্য বাড়তে থাকে তাদের পরিচয় এবং খুনের রহস্য নিয়ে।

কিন্তু অবশেষে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের ডাবুইর গ্রামে চারজনকে জবাই করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে মাদক ব্যবসা ও জুয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের কাছে বেশ কিছু টাকাও পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন, আটমূল ইউনিয়নের কাঠগাড়া চকপাড়া গ্রামের সাবরুল ইসলাম সাবু (২৮), একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রং মিস্ত্রি জাকারিয়া (৩০) ও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচপাইকা গ্রামের আজাহার মণ্ডলের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০)।

এদিকে একসঙ্গে চারটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ খুলছেন না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আটমুল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ভায়ের পুকুর বাজার। এই বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ জুয়া ও মাদক ব্যবসা চলে আসছিল। জুয়া ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের গ্রুপিং চলছিল। মাস খানেক আগে এসবের জের ধরে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেলিম নামের একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেফতার করে।

সেলিমকে গ্রেফতারের পেছনে তার প্রতিপক্ষের লোকজনের হাত রয়েছে দাবি করে সেলিম গ্রুপের লোকজন প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভায়েরপুকুর বাজারে মহড়া দিচ্ছিল। সম্প্রতি সেলিম জামিনে আসার পর এলাকায় তার পক্ষের লোকজন তৎপর হয়ে ওঠে। রোববার সন্ধ্যার পরও সেলিমের লোকজন মোটরসাইকেল যোগে ভায়েরপুকুর বাজারে মহড়া দেয়।

নিহত শাহাবুলের মা শাহেরা বানু জানান, রবিবার বিকালে শাহাবুল আলিয়ার হাটে দুধ বিক্রি করতে যায়। পরে দুধ বিক্রির পর আর বাড়িতে ফিরেনি। সোমবার সকালে ডাবইর বিলের ধানক্ষেতে স্থানীয়রা চারটি গলাকাটা লাশ দেখতে পায়। সেখানে শাহাবুলের লাশও ছিলো।

শাহাবুলের স্ত্রী কানিরা বেগম জানান, রবিবার রাত নয়টার দিকে তার সাথে শেষ কথা হয়। তখন সে মোবাইলে তাকে (স্ত্রীকে) জানায়, রাতে সে বাড়ি ফিরবে না। তার স্ত্রী আরো জানায়, শাহাবুল নেশা করতো। ব্যবসা করতো কি না তারা তা জানে না।

অন্য দিকে নিহত জাকারিয়ার মা জাহান আরা তার ছেলের শোকে মর্মাহত হয়ে পড়েছেন। নিজেকে কোনও ভাবেই ঠিক রাখতে পারছেন না। তিনি জানান, তার ছেলে জাকারিয়া কি যেন খেতো। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে কোনও দিন স্বীকার করতো না। এসব খাওয়ার কথা (নেশা দব্য) অন্যের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই শুনতেন তিনি।

জাকারিয়ার মামা মুনছুর মন্ডল বলেন, জাকারিয়ার সাথে অন্যপাড়ার কয়েকজন ঘুরতো তারা সবাই ইয়াবা খায়। তাদের সাথে জাকারিয়া গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে আড্ডায় মত্ত থাকতো। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, পার্শ্ববর্তী এলাকার নূর আলমের ছেলে শাহীন, খোরশেদের ছেলে আলাল, পলাশ এবং উজ্জ্বল। তারা সবাই ইয়াবা খেত এবং ব্যবসা করতো। কয়েক দিন আগে শাহীন এবং আলাল জাকারিয়ার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় বলে তিনি জানান। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। ধারণা করা হচ্ছে এই হত্যা কান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান জানান, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যা সংঘটিত হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা আরও বলেন, যারাই এ বর্বর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।ৎ

প্রসঙ্গত, সোমবার (০৭ মে) সকালে বগুড়ার শিবগ‌ঞ্জের আটমুল ইউনিয়‌নের ডাবুইর গ্রা‌মের পা‌শে বা‌গের ভিটা এলাকায় ধান ক্ষেত থে‌কে ৪ জ‌নের হাত পা বাঁধা গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *