সময় এক্সক্লুসিভ

এক পাশে বাঁশ অন্য পাশে লাফ!

তিন বছর আগে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালী ইউনিয়নে মোল্যাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।কিন্তু কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশ দিয়ে উঠতে হয় ব্রিজে। অন্য পাশে কিছুই না থাকায় লাফিয়ে ওঠানামা করতে হয়।এ ব্রিজ দিয়ে প্রতি দিন ৫-৭ লোক যাতায়াত করেন। এছাড়া পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতের একমাত্র ব্যবস্থা এই ব্রিজটি। ফলে শিশুরা বাঁশ বেয়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা।স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেই বিল তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার হাজার হাজার জনগণের।স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করে বিল তুলে নিলেও ওই সময় কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আজাদ জানান, ডিমখালী ইউনিয়নের হকপুর থেকে মোল্যাকান্দির এ কাঁচা সড়কটি দিয়ে কয়েকশ ছাত্রছাত্রীসহ প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ হাজার লোক যাতায়াত করেন। আর এ রাস্তার পশ্চিম মাথায় ৮১নং মোল্যাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খালের মধ্যে ব্রিজটি নির্মিত।২০১৬ সালে ভেদরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন ভেদরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মান্নান বেপারী। কিন্তু ওই সময় ব্রীজটি দুই পাশে মাটি ভরাট না করেই তৎকালীন এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিল তুলে নেন তিনি।স্থানীয় সজিব মিয়া বলেন, নির্মাণের পর ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। একপাশে বাঁশ দিয়ে সংযোগ করা হলেও অন্যপাশে কিছুই নেই। লাফিয়ে নামতে হয়। গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না।

আকলিমা বেগম বলেন, ব্রিজটির কারণে বর্ষাকালে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। বয়স্ক লোকজন চলাচল করতে পারে না। ব্রিজটিতে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মান্নান বেপারী বলেন, ওই সময় কেউ মাটি না দেয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে পারিনি। কালকে আমি লোকজন পাঠাবো তারা মাটি ভরাট করে দেবে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, আমি আসার আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে আমি ঠিকাদারকে বলেছি কাজটি করে দিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, আমি গতকাল ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদার দুই পাশের মাটি ভরাট করে দেবেন বলে কথা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *