জেলা সংবাদ

আমিতো চোখে কিছুই দেখছি না বাবা, হে আল্লাহ আমার চোখের আলো ফিরেয়ে দাও….

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটের আঘাতের আহত বাংলাদেশি স্কুলছাত্র রাসেল মিয়া (১৪)’র ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। সে ওই চোখে দিয়ে কখনই দেখতে পারবে না। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাসেল মিয়ার বড় ভাই রুবেল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য জানিয়েছেন।

আহত রাসেল মিয়া বর্তমানে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রাসেল মিয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাটারী (নোয়াখালিটারী) গ্রামের আব্দুল হানিফ মিয়ার ছেলে ও বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে ফুলবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশের ২০ গজ অভ্যন্তরে গবাদী পশুর ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএসএফের রাবার বুলেটের আঘাতে স্কুল ছাত্র রাসেল মিয়া আহত হয়। ঘটনার দিনই রাসেলকে রংপুরের প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৪ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে ২৩৬ নং রুমের ৯ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, চোখ নষ্ট হওয়ার খবর জানতে পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে ১৪ বছরের স্কুল ছাত্র রাসেল মিয়া। ওই হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে শুধু চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন। রাসেল মিয়ার বড় ভাই রুবেল ইসলাম জানান, ছোট ভাই রাসেল মিয়ার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অপর চোখে সামান্য দৃষ্টি শক্তি রয়েছে মাত্র। ভারতীয় বিএসএফ শুধু রাসেলের চোখ নয়, তার পুরো ভবিষ্যত নষ্ট করে দিয়েছে। রাসেলের মুখমন্ডলেও এখনও প্রায় ৪০টিরও বেশি গুলির চিহ্ন রয়েছে যেগুলো অপারেশন ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। আমরা বর্তমানে তার চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মোশারফ হোসেনের বরাত দিয়ে রুবেল ইসলাম জানান, রাসেলের দুই চোখেই বুলেটের আঘাত রয়েছে। তার ডান চোখের ভিতর প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। ডান চোখে বুলেটের দুটি স্প্লিন্টার এবং বাম চোখে একটি স্প্লিন্টার রয়েছে যা অপারেশন করে বের করতে হবে। অপারেশনের পর বাম চোখে সামান্য দৃষ্টিশক্তি থাকলেও ডান চোখে আর কখনই দুষ্টিশক্তি ফিরে পাবে না রাসেল মিয়া।

আব্দুল হানিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলে রাসেল মিয়া বার বার হাসপাতালের বেডে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে । বাবা আমার এখন কি হবে ! আমিতো চোখে কিছুই দেখছি না বাবা। হে আল্লাহ তুমি আমার চোখের আলো ফিরেয়ে দাও !

রাসেলের বাবা আব্দুল হানিফ আরও জানান, গত কয়েক দিনেই ছেলের চিকিৎসা বাবদ ধার-দেনা ও গুর-ছাগল বিত্রি এবং শেষ সম্বল ত্রিশ শতক জমি বন্ধকের টাকাসহ মোট দেড় লাখ টাকা নিমিশেই চলে গেল । তিনি আরও জানান, তার ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানান।
Sorce-Somoyerkanthosor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *