বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইন্টারনেট প্যাকেজ বিড়ম্বনা, নির্দেশনা মানছে না অপারেটররা

মোবাইল ফোন গ্রাহকরা বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহারে প্রতারিত হন। প্যাকেজের ইন্টারনেট ব্যালেন্স শেষ হলে গ্রাহকের মূল ব্যালান্স থেকে টাকা কাটা শুরু হয়।

ইন্টারনেট প্যাক শেষ হওয়ার পর পাঁচ টাকার বেশি কাটার সুযোগ নেই সংক্রান্ত নির্দেশনা মানছে না মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) নির্দেশনায় রয়েছে, কোনো অপারেটর ২০টি নিয়মিত প্যাকেজ ও ১৫টি বিশেষ (প্রমোশনাল) অফার মিলে সর্বোচ্চ ৩৫টি অফার দিতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিটিআরসি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপারেটরগুলোকে প্যাকজ ও অফার সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়, কিন্তু নির্দেশনা না মানায় দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে অপারেটরগুলোকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেটরগুলো বিভিন্ন অফার ও প্যাকেজ পরিচালনা করে প্রতি বছর গ্রাহকদের প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’

৭ মে, সোমবার মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহারের ভলিউম তথা এমবি শেষ হলে অর্থাৎ অফার শেষ হলে মূল ব্যালান্স থেকে অপারেটররা পাঁচ টাকার বেশি কেটে নিতে পারবে না। তবে কোনো গ্রাহক পাঁচ টাকার বেশি সীমা নিতে চাইলে তার অনুমতির ভিত্তিতে এ ধরনের সেবা দেওয়া যাবে।

এক্ষেত্রে ইউএসএসডির মাধ্যমে গ্রাহকের অনুমোদন নিতে হবে, তবে এই নিয়মও মানা হচ্ছে না।

এ ছাড়াও ১ জুনের মধ্যে অপারেটরগুলোকে নিয়মিত প্যাকেজ ২০টি ও বিশেষ (প্রমোশনাল) অফার ১৫টি প্যাকেজের কোনটি রাখতে আগ্রহী সে তালিকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপারেটরদের ভয়েস কলের ক্ষেত্রে পালস ও কলরেটের ভিত্তিতে বিভিন্ন নামের প্যাকেজ চালু রয়েছে। এ ছাড়া ডেটাভিত্তিক সেবার জন্য ডেটা ভলিউম ও মেয়াদ বিবেচনায় আলাদা আলাদা প্যাকেজ রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, একই ধরনের অনেক প্যাকেজ চালু থাকলেও এর মধ্যে থেকে নিজের প্রয়োজনীয় প্যাকেজটি পাওয়া যায় না। ফলে একই ধরনের একাধিক প্যাকেজের কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন তারা।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও মতামত জানতে প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালে বিটিআরসিতে গণশুনানি আয়োজন করা হয়।

গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের শেষ দিকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নতুন প্যাকেজের অনুমোদন স্থগিত করে বিটিআরসি।

২০০৪ সালে দেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় । চালুর সময় পি-১ প্যাকেজের মাধ্যমে সেবাটি চালু করে অপারেটরগুলো। পে-পার ইউজ প্যাকেজে একজন প্যাহক যে পরিমাণ ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করে, তাকে সে পরিমাণ বিল পরিশোধ করতে হয়।

অর্থাৎ এটি গ্রাহকের ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে এ প্যাকেজের ব্যবহারকারী নেই বললেই চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *