সময় এক্সক্লুসিভ

বাউফলে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নাবালিকা শ্যালিকাকে বিয়ে করলেন দুলাভাই!

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি:  পরকিয়া প্রেমের টানে স্ত্রী রুনু বেগমকে (১৮) তালাক দিয়ে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া নাবালিকা শ্যালিকা খালেদা আক্তার মিমকে (১৪) বিয়ে করেছেন দুলাভাই ইমরান হোসেন (২৮)।

এমনকি আব্বাস নামের নয় মাস বয়সি একমাত্র পুত্রসন্তানটি রেখে সাবেক স্ত্রী রুনুকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তার বাবার বাড়ি। গ্রাম্য সালিশি সামাজিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করতে চাইলেও শ্যালিকা মিম দুলা ভাই ইমরানের সাথে একা সংসার করতে অনড়। এমনই ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে। ইমরান উপজেলার চাঁদকাঠী গ্রামের সেকান্দার আলী হাওলাদরের ছেলে।

সে পেশায় ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালক। মিম স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। সংশ্লিষ্টসুত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেন তিন বছর আগে ভোলা জেলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চর ভেদুরিয়া গ্রামের সেরাজ উদ্দিন চৌকিদারের মেয়ে রুনু বেগমকে (১৮) বিয়ে করেন। বিয়ের দুই বছর পাড় না হতেই আপন শ্যালিকা মিমের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে দুলাই ইমরান।

গত ৫ মে স্ত্রী রুনু বেগমকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যায় ইমরান হোসেন। দুই দিন সেখানে বেড়ানোর পর শ্যালিকা খালেদা আক্তার মিমকে নিয়ে প্রেমের টানে পালিয়ে যান ইমরান। প্রায় ১৪ দিন বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকার পর শনিবার (১৯ মে) মিমকে নিয়ে বাউফলের গ্রামের বাড়ি চাঁদকাঠি চলে আসেন ইমরান। ঘটনাটি গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন মাতব্বর ক্ষুদ্ধ হন। তাদের অভিযোগ, স্ত্রী থাকতে তার অনুমতি না নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করায় সমাজ হেয় করা হয়েছে।

ওই দিন রাতে সালিশ বৈঠক বসে ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বারেক হাওলাদারের বাড়িতে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এ সালিশ বৈঠক। বৈঠকে সামাজিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করতে চাইলেও শ্যালিকা মিম দুলা ভাই ইমরানের সংসার একা করতে অনড় হওয়ায় শালিশগন বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত দেয় শ্যালিকাকে বিয়ে করতে হলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে।

এরপর ইমরান দীর্ঘ ৩ বছরের সংসার জীবন ত্যাগ করে স্ত্রী রুনুকে তালাক দিয়ে বিয়ে করেন শ্যালিকা মিমকে। সালিশ বৈঠকে রুনু বেগম ছাড়াও তার দুই ভাই ও বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এরপর ওই রাতেই ৯ মাসের শিশু আব্বাসকে ছোট বোন মিমের কাছে রেখে রুনু বেগম ভাইদের সাথে বাবার বাড়ি চর ভেদুরিয়া চলে যান।

তখন এক বেদনাদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি হলেও পাষন্ড স্বামী ইমরান ও শ্যালিকা মিম একটুও অনতপ্ত ছিলেননা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বারেক হাওলাদারের সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাড়িতে এ ঘটনায় কোন সালিশ হয়নি। আমার কাছে বিষয়টি কয়েকজন আসছিল। আমি নিজের অপারগতা প্রকাশ করে পাঠিয়ে দিয়েছি।

সূত্রঃসময়ের কন্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *