শুক্রবার, ২২ Jun ২০১৮, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

শুধুই সন্দেহ! ‘মা’কে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা: ‘বাবা’র ফাঁসি চায় ‘ছেলে’….

শুধুই সন্দেহ! ‘মা’কে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা: ‘বাবা’র ফাঁসি চায় ‘ছেলে’….

সময়ের কণ্ঠস্বর: কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করে পাষাণ্ড স্বামী সোরাব হাওলাদার। বাবার এমন নির্মমতায় বলি হওয়া মা পিয়ারা বেগমের (৩২) সংসার জীবনের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা দিচ্ছিল বড় ছেলে শামীম হাওলাদার (১৬)। অার্তনাদ করে বলছিল বাবার অত্যাচার থেকে মাকে শহরে নিয়ে অাসলেও প্রাণে বাঁচাতে না পারার যন্ত্রণার কথা। দুখিনী মায়ের জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে দিতে না পারার দুঃখবোধ, ছোট অারও তিন ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় মলিন ছিল তার মুখ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল কিন্তু চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিল না।

শামীম জানায়, ‘৫-৬ বছর অাগে অামার বয়স যখন ১০ বছর তখন মায়ের উপর বাবার এমন অত্যাচার দেখে ঢাকা চলে অাসি। পরে কামরাঙ্গীরচর মামার সহযোগিতায় একটা কাপড়ের দোকানে কাজ নেই। সেখানে কাজ শিখে দেড় বছর অাগে রসুলপুরের রনি মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি নেই। সেখানে বেতন হওয়ার পর মাকে নিয়ে অাসি অামার কাছে। অামার অারও তিন ভাইকেও কাছে রাখি। টাকার অভাবে পড়াশুনা করতে পারিনি। অামার ছোট যে তাকেও পড়াতে পারিনি এই বাবার কারণে! নিরুপায় হয়ে মামার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করে সে। বাকি দুই ভাই এখনও ছোট। তারা মায়ের সঙ্গে বাসায় থাকতো।’

সে আরও জানায়, ‘বাবার এমন অাচরণে অামরা কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতাম না। মাকে নিয়ে অাসার পর সে অনেকবার এসেছিল গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তুু অামি যেতে দেইনি। গেলে তো অাবারও মাকে মারবো। এভাবেই কয়েকমাস চলে যায়। অাজকে সকালে মাকে গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা অাবারও অামাদের বাসায় অাসে। তখন অামি ঘরে শুয়েছিলাম। মা গ্রামে যাবে না বলে বাবাকে বারবার বাসা থেকে চলে যেতে বলে। এসময় বাবা মাকে বলে ‘তুইকি চাস তোর পোলারা এতিম হউক’। এটা বলে বাবা অামাদের বাসা থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর বাবা অাবারও বাসায় অাসেন। এসে মাকে বলেন লাইট বন্ধ করা জন্য। মা লাইট বন্ধ করছিল না। এসময় বাবা নিজেই লাইটটা বন্ধ করে মায়ের গলা চিপে ধরে। ঘর অন্ধকার থাকায় অামি কিছু দেখার অাগেই বাবা মায়ের গলায় ছুরি দিয়ে একটা টান দেয়। মায়ের গোঙরানির শব্দ শুনেই অামি লাফিয়ে উঠে দেখি তার গলা দিয়ে রক্ত ঝরছে। সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বাবাকে ধরতে যাই। পরে এলাকার লোকজন তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।’

শামীমের দাবি এখন একটাই যে বাবার নিষ্ঠুরতায় অকালে সে মা হারিয়েছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চায় সে। শামীম জানায়, ‘এমন বাবার আমি ফাঁসি চাই।’

জানা গেছে, শামীমের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ।

কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মূল অাসামি সোরাব হাওলাদার থানায় অাটক অাছে। অার স্ত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
[X]