বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে আহত ১৩…. হাদিসের গল্পঃ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক…. ফেনীতে সংখ্যালঘুরা হামলা বা নির্যাতনের স্বীকার হলে,নির্যাতন কারীদের জায়গা ফেনীর মাটিতে হবেনা-নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি…. ফেনী র‍্যাব-৭ এর একিদিন চালানো দুটি অভিযানে অস্ত্র গুলি ও মাদক উদ্ধার সহ আটক-৩…. কালীগঞ্জে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক…. ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার…. রংপুর শহরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত… চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২…. ফেনীর দাঘনভূঞাঁয় বিএনপি’র ৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা… ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ….
তিন জেলায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপর…

তিন জেলায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপর…

 

হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ফেনীতে বেশ কয়েকটি নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি আরও বাড়ছে। নদীর পানি উপচে বেশ কয়েক জায়গায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

হবিগঞ্জ:

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নদীর পানি বাড়তে থাকে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের গ্রামগুলো।

এদিকে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। শহরের অনেক লোকজন খোয়াই নদীর বাঁধের ওপর রয়েছে। কোনও স্থানে যাতে ফাটল সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে শহরবাসী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জরুরিভাবে মোকাবিলা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বালির বস্তা মজুত রাখা হয়েছে যাতে করে বাঁধের কোনও স্থানে লিকেজ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের ব্যবস্থা করা যায়।’

মৌলভীবাজার:

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদী এবং কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ‘ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের আঘাতে প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতে শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙে যাচ্ছে।’

কুলাউড়ার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ছয়ফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। হাজীপুর ইউনিয়নে মনু রেল ব্রিজের কাছে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতাবপুর,মাদানগর,চক রণচাপ,হাসিমপুর,বাড়ইগাঁও ও মন্দিরাসহ ৬-৭টি এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে চক রণচাপ ও মাদানগরে বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এলাকাবাসী। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবার সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় টুকরি,কোদাল নিয়ে বাঁধের ওপর মাঠি ভরাট করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। পানি বাড়তে থাকলে মনু নদীর বেড়ীবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।’

অপরদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রবেশ করেছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। এতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কমলগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মঙ্গলবার ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। আর বুধবার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে,তাতে ধলাই নদীর পানি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, ‘ধলাই নদীর ভাঙনের ফলে ওই গ্রামে আড়াই’শ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

ফেনী:

অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মহুরী নদীর বাঁধের আটটি অংশ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এই দুই উপজেলার বহু রাস্তাঘাট, ফসলি জামি, বাড়িঘর ও মৎস্য খামার পানিতে তালিয়ে গেছে। ফুলগাজি বাজারে নদীর পানি ঢুকে বাজারের দোকানপাটের বেশিরভাগ মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১৩ জুন) ভোরে নদীর পানি বিপদসীমার তিন মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধগুলো ভেঙে যায়।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নদীর বাঁধের পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দুটি অংশ ও ফুলগাজি উপজেলা সদরের উত্তর দৌলতপুর, ধনিমুড়া, বৈরয়া ও বনিক পাড়া অংশের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধের ফাটলস্থানে পানির স্রোতের কারণে বাঁধের কাজ করতে পারছেন না তারা।’

তিনি বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে কতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।’

এদিকে ফুলগাজি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, তার উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর , ধনিয়া মোড়া, শ্রীপুর, বণিকপাড়া ও উপজেলা সদরের একাংশসহ ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষ মনবেতর জীবনযাপন করছেন। ব্যাপক মালামালের ক্ষতি হয়েছে। যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্ট চলছে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।

সূত্র-বাংলা টিবিউন


সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
Translate »