মঙ্গলবার, ১৯ Jun ২০১৮, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষায় সিষ্টেম লস

প্রাথমিক শিক্ষায় সিষ্টেম লস

“ শিক্ষার উচিত তাকে উদ্যোক্তা বা চাকরি সৃষ্টিকারী হতে প্রস্তুত করা, চাকরি খুঁজতে নয়।…আমরা যদি তরুণদের চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতাম, তাহলে বেকারত্ব বলে কিছু থাকত না ” ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পড়ছে শিশু শিখছে কি ? শিরোনামে যায়যায়দিন পত্রিকার একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছিল বাংলাদেশসহ দক্ষিন এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের মানসম্মত শিক্ষা অর্জেনের চিত্র তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় আছে, শিক্ষক আছে, শিক্ষার্থী আছে কিন্তু যোগ্যতা কতটুকু অর্জন তা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। অপরদিকে জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক পিছে।

একটি কলসির বড় ছিদ্র সহজেই চোখে পড়ে কিন্তু ছোট ছিদ্র  মোটেই চোখে পড়েনা ফলে নির্দিষ্ট সময় শেষে কলসির সমস্ত পানি নিঃশেষ হয়ে যায়। বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মিত হচ্ছে, ওয়াশব্লক হচ্ছে, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হচ্ছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে, জনবল বৃদ্ধি করা হচ্চে- এসব কাদের জন্য নিশ্চয় শিশুর মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের জন্য। আমরা শিক্ষা পরিবারের টপ টু বটম সবাই যদি শিশুর শিক্ষাকে মূখ্য না ভেবে গৌণ ভাবি তাহলে কীভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাগজ-কলম,তথ্য উপাত্ত ও বিভিন্ন সরকারি –বেসরকারি প্রেষণামূলক কাজের উর্ধ্বে রাখতে হবে। আমাদের এখনিই উপযুক্ত সময় শিশুকে চেনা,জানা, শিশুর জন্য কিছু করার তাই টপ টু বটম পর্যায়ের সকল অফিসার মহোদয়ের উচিত শিশুর ক্লাসরুম, খেলার মাঠ, দুপুরের খাবার টেবিল এমনকি শিশুর বাড়ি পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের কৌশল নির্ধারণ করা। ১৯০৪ সালে প্যারিশ যখন অনুধাবন করলো প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরা ক্লাশে মনযোগ হারাচ্ছে তখন the minister of public instruction in Paris ফ্রান্স মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড বিনেকে আমন্ত্রণ জানালো এর কারণ উদ্ধারের জন্য। আর তাদের প্রচেষ্টায় প্রথম আবিষ্কৃত হলো intelligence tests.এর পরবর্তি আট দশক পর হায়ার্ড গার্ডনারের Multiple intelligences ( MI Theory)  পাল্টে দিল পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থা। অথচ আমাদের শুধু ৮ বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচয় হতেই লাগলো এক দশক। আমরা কেউ প্রাকৃতিক নিয়মের উর্ধ্বে নই। একটি মুরগি ২১ দিন ডিমে তা দিবার পর বাচ্চা ফুটবে কখনো ২০ দিনে নয়। ৯০ দিনের ফসল ৮০ দিনে ঘরে তোলা সম্ভব নয়। তাহলে আমরা কি করে ভাবতে পারি ১৮৮ টি ক্লাসের নির্ধারিত শিখনফল ১২৬ টি ক্লাসে অর্জন সম্ভব। ১ম শ্রেণির গণিত বিষয়ে প্রান্তিক যোগ্যতা ২৫টি এবং শিখনফল ৪৪টি প্রতিটি শিখনফল অর্জনের জন্য ৪টি ক্লাস নির্ধারন করলে মোট পিরিয়ড সংখ্যা লাগে ১৭৬। আমাদের বছরে পিরিয়ড নির্ধারিত আছে ১৮৮। কিন্তু কলসির ছোট ছিদ্র দিয়ে ৬২ এর বেশি কিংবা কম পিরিয়ড সিষ্টেম লসে অদৃশ্য হয়।এখন দেখি কিভাবে এই পিরিয়ডগুলো অদৃশ্য হয়। উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান , কৃমি সপ্তাহে তথ্য প্রদান, আন্তক্রীড়া বিদ্যালয়, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়, শিক্ষা সপ্তাহ ও মীনা মেলা উপজেলা ও জেলা পর্যায়, প্রশিক্ষন, সমাপনী পরীক্ষার ডিউটি ও খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষকের নৈঃ ছুটি, শিক্ষকের চাকুরি সংক্রান্ত ব্যাক্তিগত কাজ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ ও নির্বাচন গ্রহন, কাবিং প্রোগামে অংশগ্রহন, উন্নয়ন মেলা, ডিজিটাল মেলা, স্থানীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান, প্রতিকূল আবহাওয়া, বরেণ্য কোনো ব্যাক্তির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, বিদ্যালয় পর্যায়ে এস এম সি সহিত বিরোধ , রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় কাজে বিদ্যালয় ব্যাবহার, সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় শিক্ষকদের প্রেষণা প্রদান, অবকাঠামো ঊন্নয়নে শেণি কক্ষের সংকট ইত্যাদি।

মোঃ তাজুল ইসলাম

প্রধান শিক্ষক

আমজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিবগঞ্জ, বগুড়া।

সূত্রঃsanarbangla.com

সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
[X]