শুক্রবার, ২২ Jun ২০১৮, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

হিন্দি গানের তালে খালি পায়ে নাচতে নাচতে তৈরী হচ্ছে ‘সুস্বাদু’ লাচ্ছা সেমাই!…

হিন্দি গানের তালে খালি পায়ে নাচতে নাচতে তৈরী হচ্ছে ‘সুস্বাদু’ লাচ্ছা সেমাই!…

রুদ্র রহমান :: আর কয়েকদিন পরই মুসলমান ধর্মাবলম্বী তথা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সবথেকে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ আসন্ন হলেই বেড়ে যায় কিছু প্রতারক চক্রের দৌড়াত্ম্য। সবথেকে বেশী দৌরাত্ম্য দেখা মেলে ঈদ উৎসবের অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ লাচ্ছা সেমাইকে কেন্দ্র করে। প্রতিবারের মত এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ শহরের আনাচে-কানাচে ও এর আশপাশে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০টি লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা। বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী কারখানায় অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ডালডা। এছাড়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান রং ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী, রজাকপুর, চকপ্রাণ, পালপাড়া, দূর্গাপুর, চুনিয়াগাড়ী ও ভীমপুর সহ প্রায় ২০ টি স্থানে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা আছে। গড়ে উঠা মৌসুমি কারখানাগুলো অনুমোদন না নিয়েই সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে।

বেশ কিছু কারখানায় সরেজমিনে দেখা গেছে, রমজান মাসেও মিউজিক প্লেয়ারে হিন্দী গান বাজিয়ে তার তালে তালে খালি পায়ে নাচার ভঙ্গিতে তৈরী করা হচ্ছে লাচ্ছার খামির। শ্রমিকদের শরীরও খালি। সেই শরীর বেয়ে টপটপ করে নিচে পড়ছে ঘাম। তাতে করে ঘামই খামিরের পানির কাজ করছে। এভাবেই সেখানে সেমাই তৈরীতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শ্রমিক ও মালিকরা।

তাছাড়া হাতে কোনো গ্লাভস্ এবং গায়ে নির্ধারিত কোন পোশাক নাই। তাই তাদের গায়ের ঘাম ও হাতের ময়লার মাধ্যমেই ক্ষতিকারক জীবানু ছড়াচ্ছে।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, পা যতোই পরিস্কার হোক না কেন আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ও নখে জীবানু থাকে। এছাড়া শরীর থেকে যে ঘাম ঝরে এটা পেটের জন্য হুমকি স্বরুপ ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপা সহ পেটের বিভিন্ন পীড়া দেখা দিতে পারে। আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা-সেমাই তৈরী করা হলেও রোগ জীবানু ছড়াবে। এতে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি মনে করেন, এসব বন্ধে প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা জরুরী।

সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
[X]