রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে আহত ১৩…. হাদিসের গল্পঃ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক…. ফেনীতে সংখ্যালঘুরা হামলা বা নির্যাতনের স্বীকার হলে,নির্যাতন কারীদের জায়গা ফেনীর মাটিতে হবেনা-নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি…. ফেনী র‍্যাব-৭ এর একিদিন চালানো দুটি অভিযানে অস্ত্র গুলি ও মাদক উদ্ধার সহ আটক-৩…. কালীগঞ্জে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক…. ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার…. রংপুর শহরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত… চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২…. ফেনীর দাঘনভূঞাঁয় বিএনপি’র ৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা… ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ….
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগবিধিতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগবিধিতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। বিধিটি এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও শেষ। এটি চূড়ান্ত করতে গত ১০ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি এখন সচিব কমিটিতে উঠবে। সচিব কমিটির অনুমোদন পেলেই এটি বাস্তবায়ন হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা ইশরাত ঢাকাটাইমসকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কবে নাগাদ এটি চূড়ান্ত হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপসচিব বলেন, এটি শেষ হতে কিছু সময় লাগবে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, নতুন বিধিমালায় বড় আকারে পাঁচটি পরিবর্তন আসছে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষের জন্য স্নাতক আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হয়। কিন্তু নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বহাল থাকছে।

সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এত দিন স্নাতক পাস হলেই আবেদন করা যেত। নতুন বিধিমালার খসড়ায় এই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর প্রস্তাব করা হয়েছে। এত দিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ছিল ২৫ থেকে ৩৫ বছর। কিন্তু এখন এই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর। তবে আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার বিধানও থাকছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে শিথিলযোগ্য। বাকি ৩৫ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এই পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো দায়িত্বই থাকবে পিএসসির।

নতুন বিধিমালায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগেও জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেকোনো বিষয়ে পাস করা প্রার্থীর সমান সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এতে মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষকরা গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো সহজে আত্মস্থ করতে পারেন না। এ কারণে নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট পদের শতকরা ২০ ভাগ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্লাস্টার বা উপজেলাভিত্তিক আর্ট ও সংগীত শিক্ষক রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগ আগের মতোই উপজেলা বা থানাভিত্তিক হবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত সহকারী শিক্ষক নির্বাচন কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন অথবা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিকেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

নতুন বিধিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৩তম থেকে ১৬তম বেতন গ্রেডের কোনো পদে থাকা শিক্ষককে দশম থেকে দ্বাদশ বেতন গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা যাবে। আর দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে থাকা শিক্ষক নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ পেতে পারেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই পিএসসির সুপারিশ প্রয়োজন হবে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় এসব শর্ত নেই। বর্তমানে কোনো ব্যক্তির শিক্ষক পদে যোগদান করার তিন বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুন বিধিতে তা থাকছে না।

এসব বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, নতুন বিধিমালা এখন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটা নিয়ে একাধিক মিটিংও হয়েছে। সংশোধন, পরিবর্তন-পরিবর্ধন চলছে। তবে ২০১৩ সালের বিধিমালা থেকে নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। এই বিধিমালা পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত এটা প্রস্তাবই বলতে হবে। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করলে তা জনপ্রশাসনে যাবে, সচিব কমিটিতে যাবে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই নতুন বিধিমালা পাস হবে।’

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ একান্তই অপরিহার্য। বিদ্যমান নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক নতুন এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রণীত বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি শতকরা ৩৫ ভাগ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে শতকরা ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়টি পিএসসির বিবেচনাধীন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের এটিও অপরিহার্য কারণ।


সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।



© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
Translate »