মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে আহত ১৩…. হাদিসের গল্পঃ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক…. ফেনীতে সংখ্যালঘুরা হামলা বা নির্যাতনের স্বীকার হলে,নির্যাতন কারীদের জায়গা ফেনীর মাটিতে হবেনা-নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি…. ফেনী র‍্যাব-৭ এর একিদিন চালানো দুটি অভিযানে অস্ত্র গুলি ও মাদক উদ্ধার সহ আটক-৩…. কালীগঞ্জে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক…. ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার…. রংপুর শহরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত… চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২…. ফেনীর দাঘনভূঞাঁয় বিএনপি’র ৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা… ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ….
‘প্রধানমন্ত্রী হয়েও ছেলের পড়ার টাকা দিতে পারিনি’

‘প্রধানমন্ত্রী হয়েও ছেলের পড়ার টাকা দিতে পারিনি’

১৯৯৬ সালে দেশের শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও টাকা দিতে না পারায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। একই ঘটনা পরেও ঘটেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সময় ঘটনাপ্রসঙ্গে এই কথাটি জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী কথা বলছিলেন সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিলে তার ঘোষণা নিয়ে। জানান, তিনি যেটা বলেছেন, সেটা অন্যথা হবে না। তবে কীভাবে এটি কার্যকর করা যায় সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করছে।
ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা নেয়ার সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরও সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনে নামার সমালোচনা করে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচের প্রসঙ্গটি তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের যারা উচ্চশিক্ষা পায়, সবচেয়ে অল্প খরচে, পৃথিবীতে সবচেয়ে অল্প খরচে লেখাপড়া শিখে। পৃথিবীতে এত কম খরচে কেউ লেখাপড়া শিখতে পারে না।’
‘মাননীয় স্পিকার অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার চান্স পেয়েছিলেন, কিন্তু তার বাবার সেই সঙ্গতি ছিল না যে তিনি সেখানে পড়ার খরচ দিতে পারেন। তিনি কিন্তু সেখনে ভর্তি হতে পারেননি।’
এই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তার দুই সন্তানের পড়াশোনার প্রসঙ্গ তোলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করেছে, চাকরি করেছে। আবার একটা গ্যাপ দিয়েছে তারপর পড়েছে। একটা গ্র্যাজুয়েশন হয়েছে, কিছুদিন পড়েছে, স্টুডেন্ট লোন নিয়েছে, সেটা শোধ দিয়েছে, আবার ভর্তি হয়েছে।’
‘পড়াশোনা করা অবস্থায় ঘণ্টা হিসেবেও কিন্তু তারা কাজ করত। পার ঘণ্টা হিসেবে তারা একটা অ্যামাউন্টি পেত সেভাবেই তারা চলত।’
ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পর কিছুদিন চাকরি করল ঢাকায়। চাকরি করার পর আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য এমআইটিতে (যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়) চান্স পেল। আমি তার শিক্ষার খরচটা দিতে পারিনি। দুইটা সেমিস্টার পড়ার পরে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেল।’
‘এমআইটিতে আমি খরচটা দিতে পারলাম না। আমি তখন প্রধানমন্ত্রী। আমার দ্বিধা হলো, কাকে বলব খরচ দিতে? আমি কীভাবে টাকা পাঠাব?’
‘আমার নিজের কারণেই তার পড়া হলো না। দুইটা সেমিস্টার পড়েই তার বিদায় দিতে হলো। তারপর সে চাকরিতে ঢুকল।’
কয়েক বছর চাকরি করার পর হার্ভার্ডে জয়ের ভর্তি হওয়ার বিষয়টিও জানান শেখ হাসিনা।
‘সে চাকরি করে, বউমা চাকরি করে। তখন আমি বললাম, তুমি হার্ভার্ডে অ্যাপ্লাই করো।…অনেক অনুরোধ করার পর সে অ্যাপ্লাই করল, চান্স পেয়ে গেল।’
‘জানুয়ারি মাসে (২০০৭ সালের) বলেছিলাম, তোমাকে ফার্স্ট সেমিস্টারের টাকা আমি দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি অ্যারেস্ট হয়ে গেলাম। অ্যারেস্ট হলেও বলেছিলাম পড়াশোনা যেন বন্ধ না করে।’
‘তখন বউ চাকরি করে, সেও চাকরি করে। বাড়ি ভাড়া দিয়ে সেই ভাড়ার টাকা দিয়ে… কলেজ থেকে দূরে বাসা ভাড়া নিল সস্তায় বাসা পাবে বলে। গাড়ি রেখে মোটর সাইকেলে করে গেছে।’
উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কীভাবে পড়াশোনা করেছেন, সেটি নিয়েও জানান তাদের মা। বলেন, ‘তার (জয়) কিছু বন্ধুবান্ধব ছিল তারা সাহায্য করল। আমার আব্বার বন্ধু ছিল আজিজ সাত্তার সাহেব ছিলেন। আমার ছেলে মেয়েদের পড়ার সব দায়িত্ব তিনি নিলেন। তিনি বললেন, ‘তুমি পলিটিক্স করো, এটা আমার দায়িত্ব। তিনি না থাকলে পড়াশোনাটা করাতে পারতাম না।’
‘ছেলেমেয়েরা মিশনারি স্কুলে পড়েছে। সাত দিনের মধ্যে ছয় দিন সবজি, ডাল ভাত খেতে হতো। একদিন মাংস ছিল। এভাবেই কিন্তু কৃচ্ছতা সাধন করেই কিন্তু তারা বড় হয়েছে।’
শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপের পড়াশোনা কীভাবে হয়েছে, সেটাও জানান শেখ হাসিনা।
‘রেহানার মেয়ে অক্সফোর্ডে চান্স পেয়েছে। সে পড়াশোনা করল স্টুডেন্ট লোন নিয়ে। তারপর চাকরি করে সে লোন শোধ দিয়ে এরপর আবার কয়েক বছর পরে… ২১ বছর বয়স থেকে চাকরি করে। তারপর কয়েক বছর পর মাস্টার ডিগ্রি করেছে। এরপর চাকরি করে এখন।’


সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
Translate »