রবিবার, ২২ Jul ২০১৮, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

নেইমার-কুটিনহোর ছেলেবেলার জুটিতেই এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল

নেইমার-কুটিনহোর ছেলেবেলার জুটিতেই এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল

প্রাণের বন্ধু। মানিকজোড়। একে অপরের সুখদুঃখের সঙ্গী। নেইমার এবং ফেলিপে কুটিনহো। বন্ধুত্বের পথ চলা শুরু হয়েছিল বার্সেলোনাতেই। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে। সেই সময় এক নৈশভোজে সময়মতো পৌঁছতে পারেননি নেইমার। বন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুখে খাবার তোলেননি কুটিনহোও। হোটেলের রুমে ফিরে তাই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। কুটিনহোকে জড়িয়ে ধরে সেদিন কেঁদেছিলেন নেইমার। আজও দু’জনের মধ্যে সেই আবেগ একইরকম। চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপে লুই ফেলিপে স্কোলারির স্কোয়াডে বন্ধুর নাম না দেখে ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। পরে কুটিনহোই এসে তাঁকে বোঝান। বলেন, ‘সামনে অনেক বিশ্বকাপ পড়ে আছে। একদিন না একদিন তো দু’জনে পাশাপাশি খেলব।’ গত বছর বার্সেলোনায় এক টিভি সাংবাদিক নেইমারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কুটিনহো আপনার কতটা কাছের বন্ধু? এতটুকু সময় না নিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘বন্ধু কাছেরই হয়। দূরের হলে তো পরিচিত বলব! আপনার সঙ্গে বুমের যা সম্পর্ক, আমার সঙ্গে কুটিনহোরও তাই।’
১৯৯২’তেই জন্ম দু’জনের। নেইমার ফেব্রুয়ারিতে। চার মাস পর কুটিনহো। বার্সেলোনায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নজর কাড়েন দু’জনেই। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে কুটিনহো সিনিয়র। ২০০৮-এই তিনি ভাস্কো দা গামা অ্যাকাদেমি থেকে ইন্তার মিলানের জার্সি গায়ে চাপান। আর স্যান্টোসের ছাড়পত্র পেয়ে নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেন ২০১৩-এ। তবে দেরিতে ইউরোপে এলেও খ্যাতি অর্জনে তিনি কুটিনহোকে পিছনে ফেলেছেন। কাতালন ক্লাবটিতে থাকার সময় কর্তাদের কাছে বন্ধুর জন্য দরবার করতেও পিছপা হননি নেইমার। কিন্তু ক্লাব পর্যায়ে একসঙ্গে খেলা আর হয়ে ওঠেনি দুই বন্ধুর। ভাগ্যের এমন পরিহাস, নেইমার পিএসজিতে যাওয়ার পর তাঁরই বিকল্প হিসেবে আর্নেস্তো ভালভার্দে-ব্রিগেডে যোগ দেন কুটিনহো।
নেইমারের জার্সি নম্বর ১০। আর এক ধাপ পরেই কুটিনহো। মাঠেও তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি থাকেন। নেইমার লেফট উইং দিয়ে অপারেট করেন। আর কুটিনহো থাকেন তাঁর ডান পাশে। বোঝাপড়া এতটাই মসৃণ যে একে অপরের দিকে না তাকিয়েও নির্ভুল পাস দিতে পারেন। এবারের বিশ্বকাপে নেইমার-কুটিনহোর কম্বিনেশনই প্রফেসর তিতের মূলধন। মিলের মতো অমিলও কম নেই দুই বন্ধুর। নেইমার সবসময় প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন। কুটিনহো’র আবার অভ্যাস পর্দার পিছনটা। পরিস্থিতি এমনই, বিরাট কোনও পট পরিবর্তন না হলে আগামী মরশুমেও দু’জনের এক জার্সিতে খেলা অসম্ভব। তাই ক্লাব পর্যায়ে একসঙ্গে খেলার দুঃখ ঘোচানোর জন্য বিশ্বকাপকেই বেছে নিয়েছেন নেইমার এবং কুটিনহো। কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত ব্রাজিলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রধান কারিগর এই জুটি। দু’জনেই দু’টি করে গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। দু’জনের এই বোঝাপড়ায় ভর করেই যে আজ বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিল প্রেমীরা। -ফাইল চিত্র

সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়