বিচিত্র সংবাদ

২০০ রোগীর জীবন বাঁচাল জোঁক!

চিকিৎসাবিজ্ঞানে জোঁকের বিপ্লব ঘটিয়েছেন ভারতের চিকিৎসকরা। ডায়াবেটিক, আলসারসহ মারাত্মক সব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে জোঁক। এতে সফলতাও পেয়েছে দেশটির চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, অন্তত ২০০ রোগীর জীবন বাচানো সম্ভব হয়েছে জোঁক দিয়ে চিকিৎসা করে।

গুরুতর অসুস্থ ছিলেন কলকাতার ওষুধ কোম্পানির মালিক এক নারী। পায়ের আলসার কিছুতেই সারছিল না। এরপর তিনি শরনাপ্ন্ন হন ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের। কলকাতার একটি হাসপাতালের চিকিৎসক ক্ষতস্থানে জোঁক বসিয়ে চিকিৎসা করেন। মাসখানেকের মাথায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি।

পেরেক ঢুকে পচন ধরেছিল পায়ে। একটি অংশ অপারেশ করে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, রোগীর আবার ‘ডায়াবেটিক’। পায়ে গ্যাংগ্রিনের জায়গায় জোঁক বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অপারেশন ছাড়াই দিব্যি সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই রোগী। এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। বস্তুত, শুধু আলসার বা গ্র্যাংগিনই নয়, সাদাস্রাব, সোরিয়াসিসি, ফাইলেরিয়ার মতো রোগও সারছে ‘লিচ থেরাপি’ বা জোঁক-চিকিৎসায়।

কিন্তু কিভাবে সম্ভব। কি আছে জোঁকে। বিষয়টি খোলাসা করেছেন, কলকাতার জেবি হাসপাতালে পঞ্চকর্ম বিভাগের প্রধান পুলককান্তি। তিনি বলেন, শরীরের পচনশীল অংশের দূষিত রক্ত দ্রুত শুষে নিয়ে নতুন রক্তা সঞ্চালনে সাহায্য করে জোঁক৷ এমনকী, রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। জোঁকের শরীর থেকে ডেস্টাবিলেস নামে এক ধরণের প্রোটিন প্রবেশ করে মানুষের দেহে। যা বহু জেদি জীবাণুকে মেরে ফেলে।

তিনি জানান, জোঁকের শরীরে থাকা নিউরোসিগন্যালিং এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল পেপটাইড যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। জয়েন্ট পেনেও দারুণ কাজ করে জোঁক থেরাপি। ব্যথার জায়গায় কিছুক্ষণ জোঁক রাখলে রক্ত সরবরাহের উন্নতি হয়। ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের প্রকোপ কমে যায়

আরেক চিকিৎসক প্রদ্যুতবিকাশ কর মহাপাত্র জানান, এক একটি জোঁক ২ থেকে ১৫ মিলিলিটার রক্ত শুষতে পারে। সেই সঙ্গে মুখ থেকে এক ধরনের লালা মিশিয়ে দেয় রক্তে। যাতে হিরুডিন, ক্যালিক্রেইন, ক্যালিনের মতো কিছু উৎসেচক থাকে। যা রক্তের দুষ্টি দূর করতে সাহায্য করে।

সূত্রঃইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close