বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাতিক্রমধর্মী শোক দিবস পালন করেছে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার… রাজশাহীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস দোকানে, স্কুলছাত্রীসহ প্রাণ গেল ২ জনের.. ঝিনাইদহ লাউদিয়া গ্রামের এক পরিবারের তিন শিশুকে যৌন নিপীড়ন…. ঝিনাইদহ জেলা রিপেটার্স ইউনিটি ও এনপিএস’র জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা শেষে শহর জুড়ে মটরসাইকেল র‌্যালি…. ভাটই বাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস করা কথিক সাংবাদিক দম্পতি লিটন মিয়া ও আনোয়ারা পারভিন হ্যাপী এবার মহা গ্যাড়াকল…. ফেনী শহরে নিখোঁজের চার ঘণ্টা পর ডোবা থেকে শিশুর মীমের লাশ উদ্ধার… ঢাকায় ইলিশের কেজি মাত্র ৪০০ টাকা! মোবাইল ফোনে নতুন কলচার্জ নিয়ে যা বলছেন গ্রাহক… হরিণাকুন্ডুতে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে দুই ভুয়া সাংবাদিক গ্রেফতার…. সিম ছাড়াই কল করা যাবে ফোনে….
loading...
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে জমে উঠছে বিলুপ্তীর পথে থাকা কামার শিল্পটি….

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে জমে উঠছে বিলুপ্তীর পথে থাকা কামার শিল্পটি….

loading...

সৈয়দ কামাল,ফেনী জেলা প্রতিনিধিঃ যান্ত্রিক যুগের আবিরভাব ঘটায় অনেকটা বিলুপ্তীর পথে থাকা ঐতিহ্যবাহী কামার পেশাটি সল্পসময়ের জন্য জাগিয়ে তুলেছেন,পেশাটি ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়া দু’একজন কামার।এদের মধ্যে একজনের নাম সন্তোষ কর্মকার।৬০ উর্ধ সন্তোষ কর্মকার বেশীদিন হচ্ছে না নিজের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী কামার পেশাটি ছেড়ে বর্তমানে ছোট ছেলে মিলন কর্মকারের ঔষধের ফার্মেসীতে বসে সময় কাটাচ্ছেন।কোরবানির ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় দু’এক দিন হয় সন্তোষ কর্মকারকে দেখা যাচ্ছে,মেটাল ও গাড়ী ব্যাবসায়ী বড় ছেলে জীবন কর্মকারকে সাথে নিয়ে,ছাগলনাইয়া পৌরসভাধীন মির্জার বাজারে নতুন করে যোগ দিয়েছেন নিজ পেশায়।কামার পেশাটি ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে সন্তোষ কর্মকারকে তার নিজ পেশায় একজন দক্ষ কারিগর হিসেবে দেখেছিলাম।দীর্ঘ বছর পর হঠাৎ নিজ পেশায় যোগ দিলে ও এখনো নিজকর্মে সন্তোষ কর্মকার আগের মতোই দক্ষতার সাথে লাল টকটকে লোহা পিটিয়ে টুং টাং শব্দে চালিয়ে যাচ্ছেন কাজ।দীর্ঘ বছর পর সন্তোষ কর্মকারকে তার নিজ পেশায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম।দাদা এখন থেকে কি নিজের ও বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশায় নিয়োমিত থাকবেন।উত্তরে বল্ল দাদা ভাই আমিতো কখনোই নিজ পেশাটি ছাড়তে চাইনি, দুই ছেলের কড়া বারণে পেশাটি ছাড়তে বাদ্য হয়েছি।তাছাড়া একা একা তো এই কাজটি করা যায়না।এক সময় বড় ছেলে জীবনকে নিয়ে দু’চার জন কর্মচারি রেখে কাজ করতাম।তখন এই কাজের যথেষ্ট চাহিদা ছিল।ধীরে ধীরে কাজটির চাহিদা কমতে থাকলে বড় ছেলে জীবন মেটাল ও গাড়ীর ব্যাবসায় চলেগেল,অন্য দিকে এই পেশায় কাজ না থাকায় এখন আর কর্মচারী ও পাওয়া যায়না।জিজ্ঞেস করলাম তাহলে এখন আবার নতুন করে শুরু করলেন কেন?আমার বয়সী তোমাদের বাপ-চাচাদের কারণে,তোমাদের কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় পুরোনো সেইসব বন্ধু বান্ধবরা এমন ভাবে অনুরোধ করলো যেন,কোরবানির ঈদ পূর্ব কয়েকদিনের জন্য কাজটি করি।ওদের অনুরোধ রাখতে গিয়েই আবার নতুন করে সব কিছু সাজাতে হলো।এই কয়দিনের জন্য কাজ করাতে অনেক জায়গায় খুঁজে ও একজন কর্মচারী সংগ্রহ করতে পারিনি।সবকিছু যখন গোজগাজ করে পেলেছি তখন তো আর সরে যেতে পারি না,ছেলেদের অনিচ্ছায় কাজটি করায় এই কাজে পারদর্শী বড় ছেলে জীবনকে ও ডাকতে পারছিলাম না।একসময় নিজে নিজে যখন কয়লায় আগুন দিয়ে লোহা গরম করছি আর ঠান্ডা করছি।এই পরিস্থিতি দেখে জীবন আর থাকতে পারেনি মনে কষ্ঠ নিয়ে হলে ও শেষ অবধী আমার সাথে এসে কাজে যোগ দিয়েছে।জাতীগত পেশাটি ছাড়তে যে,আমার কি কষ্ঠ হচ্ছে তা কাউকে বুঝাতে পারবো না।সেই বাল্যকাল থেকে বাবার হাত ধরে নিজেদের জাতীগত পেশায় কর্ম শুরুকরে যৌবনকাল কাটিয়ে বৃদ্ধকাল অতিবাহিত করেছি এই কর্মে,এখন মৃত্যুকালে এসে দেখছি এই পেশাটি বিলুপ্তী হয়ে যাচ্ছে।এক সময় দেখবা তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কামার নামে যে,একটি পেশা ছিলো তা বাশ্বাসই করাতে পারবে না।
বিলুপ্তীর পথে থাকা নিজের জাতীগত পেশাটি ছাড়তে যে,বৃদ্ধ সন্তোষ কর্মকারের কত কষ্ঠ হচ্ছে সেই বিষয়টি তার সাথে কথোপোকথনে বেরিয়ে এসেছে।কর্মকারদের ঐতিহ্যবাহী কামার পেশাটিকে ইচ্ছে করলে এখনো আমরা বাঁছিয়ে রাখতে পারি।এখনো যে কয়জন অন্যকোন উপায় থাকায় এই পেশাটিকে নিজেদের জীবিকা নির্বাহে একমাত্র অবলম্ভন হিসেবে আটকে ধরে আছেন,তাদেরকে যদি নিজের নিত্য প্রয়োজনীয় দা চুরি বৈঠা খুন্তি কাস্তে ও কুড়ালের কাজ দিতেপারি।এই কাজগুলি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজ আছে বা নাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা যাবেনা।নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য বা শিল্পকে ধরে রাখতে চাইলে এমনটি করতেই হবে।

সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন
loading...

অামাদের সংবাদ সংক্রান্ত তর্থ্য

সকল প্রকাশিত/সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট ইত্যদি অনলাইনের নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ীনয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের এবং প্রকাশিত সূত্রের। অামাদের প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ থাকলে অামাদের জানাতে পারেন।


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়