বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:০১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে আহত ১৩…. হাদিসের গল্পঃ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক…. ফেনীতে সংখ্যালঘুরা হামলা বা নির্যাতনের স্বীকার হলে,নির্যাতন কারীদের জায়গা ফেনীর মাটিতে হবেনা-নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি…. ফেনী র‍্যাব-৭ এর একিদিন চালানো দুটি অভিযানে অস্ত্র গুলি ও মাদক উদ্ধার সহ আটক-৩…. কালীগঞ্জে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক…. ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার…. রংপুর শহরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত… চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২…. ফেনীর দাঘনভূঞাঁয় বিএনপি’র ৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা… ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ….
ক্রয়মূল্য ৭ টাকা বিক্রি ২৭ টাকায়

ক্রয়মূল্য ৭ টাকা বিক্রি ২৭ টাকায়

ডায়াবেটিক রোগীদের বহুল ব্যবহূত ইনসুলিন সিরিঞ্জ ব্র্যান্ড ফিল জেক্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি ফিলটেক এ ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ প্রস্তুত ও বাজারজাত করে। সে দেশে প্রতিটি ফিল জেক্ট ইনসুলিন সিরিঞ্জের মূল্য বাংলাদেশী মুদ্রায় সর্বোচ্চ ৭ টাকা। কিন্তু দেশের বাজারে এ সিরিঞ্জ বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকায়। যদিও একই ধরনের দেশীয় ও ভারতীয় সিরিঞ্জ বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ টাকায়।

জানা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা প্রতিটি বিদেশী ইনসুলিন সিরিঞ্জ কমপক্ষে ১০-১২ বার ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য তারা এসব সিরিঞ্জ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এসব সিরিঞ্জের বিষয়ে রোগীদের এক ধরনের অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর সূত্রাপুরের পাতলাখান লেনের অধিবাসী এসএম মনির হোসেন জানান, এতদিন প্রতিটি ইনসুলিন সিরিঞ্জ তিনি ৮ টাকা দামে কিনেছেন। তবে গত রোববার তিনি সিরিঞ্জ কিনতে বাজারে লোক পাঠালে দোকানি প্রতিটি সিরিঞ্জের জন্য ২৫ টাকা দাম হাঁকেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে ফিল জেক্ট ইনসুলিন সিরিঞ্জ আমদানি হয় না। স্থানীয় কয়েকটি কোম্পানি ইনসুলিন সিরিঞ্জ প্রস্তুত করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা পণ্যটি আমদানির অনুমোদন দেয় না। তবে স্থানীয় বাজারে ভারতের ডিসকোভেন্ট ও কোরিয়ার ফিল জেক্ট ব্র্যান্ডের ইনসুলিন সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। চোরাইপথে আনা এসব পণ্যে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। বাজারে সিরিঞ্জগুলোর মূল্যও নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। ফলে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দামে এসব সিরিঞ্জ বিক্রি করতে পারছেন।

অনলাইন মার্কেট পোর্টাল আলিবাবা ডটকম সূত্রে জানা যায়, কোম্পানি ও মানভেদে প্রতিটি ইনসুলিন সিরিঞ্জের মূল্য পড়ছে দেশীয় মুদ্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। যদিও দেশের বাজারে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

মিটফোর্ড এলাকার আলিফ লাম মিম ফার্মার বিক্রয় প্রতিনিধি গোপাল চন্দ্র দাস জানান, বছরখানেক আগেও তিনি প্রতিটি ফিল জেক্ট ইনসুলিন সিরিঞ্জ ৮ টাকায় বিক্রি করতেন। ওই সময় সরবরাহকারকরা সিরিঞ্জগুলো বাকিতে দিয়ে যেতেন। বিক্রির পর তাদের মূল্য পরিশোধ করা হতো। রোগীরা এই সিরিঞ্জ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে এখন দাম অস্বাভাবিক নেয়া হচ্ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে তিনটি কোম্পানি ইনসুলিন সিরিঞ্জ প্রস্তুত করছে। জেএমআই সিরিঞ্জ, অপসো স্যালাইন ও গ্রেট ওয়ার্ল্ভ্র ব্র্যান্ড নামে এসব সিরিঞ্জ বাজারজাত হচ্ছে। স্থানীয় তিনটি কোম্পানি উৎপাদন করছে বলে ইনসুলিন সিরিঞ্জ আমদানিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা শাখার সভাপতি জাভেদ আহমেদ জানান, দেশীয় কোম্পানি ইনসুলিন সিরিঞ্জ উৎপাদন করছে বলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কাউকে রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে না। আজমির এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১১ বছর আগে ভারত থেকে ডিসকোভেন্ট সিরিঞ্জ আমদানির জন্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন নেয়। দেশীয় প্রস্তুতকারকদের চাপে দুই বছর পর ওই নিবন্ধন বাতিল করা হলে আমদানিকারক উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতের অনুমোদন নিয়ে তারা সিরিঞ্জ আমদানি অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে ফিল জেক্ট ইনসুলিন সিরিঞ্জ জাস্ট করপোরেশনের মাধ্যমে দেশের বাজারে পরিচিত হয়। তবে আমদানির জন্য কেউ নিবন্ধন না পাওয়ায় বর্তমানে অনেকে চোরাইপথে পণ্যটি আমদানি করছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রাসাদ বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে ইনসুলিন ব্যবহার করছে প্রায় ১৮-২০ লাখ মানুষ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ওষুধের চেয়ে ইনসুলিন নিরাপদ। ইনসুলিন ও সিরিঞ্জের মূল্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নায়ার সুলতানা বণিক বার্তাকে বলেন, ইনসুলিন সিরিঞ্জ আমদানির জন্য কাউকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়নি। বাজারে বিদেশী ইনসুলিন সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওইসব সিরিঞ্জ চোরাইপথে আমদানি হচ্ছে।

সূত্র:bonikbarta


সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
Translate »