বিচিত্র সংবাদ

তারাই হিরো, তবুও তাদের নাম নেই সাফল্য-গাঁথায়….

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে ঈদ এসেছে, শহরে-নগরে, গ্রাম-গঞ্জেও। কিন্তু আনন্দের রঙ ও রকম সবার জন্য এক নয়। অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য যাদের, পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে তারা স্রষ্টার সন্তুষ্টি খোঁজেন। আরেক দল মানুষ আছেন নিজের আনন্দ উৎসর্গ করেন সব মানুষের জন্য।

কোলাহল মুখর শহরের সীমানা পেরুলেই নাচনিয়া গ্রাম। এই গ্রামের ধুলো-মাটি মাখামাখি করে বাড়ন্ত এক কিশোর আর তার লাল-পিড়ানের গল্প হয়তে অনেকের জানা। দিন বদলেছে, কারো কারো গায়ে উঠেছে ঈদের জামা। তবে এখনও উদোম গায়ে লুটোপুটি খেলে অনেক শিশুরা।

একজন দরিদ্র শিশু বলে, আমি শাক দিয়ে ভাত খাইছি।

আরেক শিশু বলে, ‘আমার বাবা তো গরীব, তাই আমারে কিছু কিনে দেয়নি।’

অন্য দিনগুলোর সঙ্গে পার্থক্য নেই দিনটার। আজ ভালো-মন্দ খাবার জুটবে সবার, তবে সামর্থ্যবানদের বাড়ি থেকে কুরবানি করা পশুর মাংস এলে।

একজন মহিলা জানান, ‘মানুষ কুরবানি দেয়, ওখান থেকে এলে একটু রান্না করে খাওয়াবো, এছাড়া তো আমাদের কেনার ক্ষমতাও নেই।’

খুশির দিনটায় বন্ধু-প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটু অলস সময় কাটানোর ফুরসৎ নেই মাঠের এই মানুষগুলোর। পিতা মাতা সন্তান পরিজনের টানে আজকের দিনটাও বাঁধা পড়েনি, যতো টান বাড়ন্ত ফসলের মাঠে।

১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এই মানুষগুলোর শ্রমে-ঘামে, প্রত্যেকটি মানুষের ত্যাগে উৎসর্গে। কিন্তু তাদের নাম লেখা থাকে না সাফল্য-গাঁথায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close