অন্যান্য

বাংলাদেশের ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে তাল মিলাতে হান্ট একাডেমী…

রহমান মৃধা (সুইডেন)দৈনিক সময়ঃ
পৃথীবি সৃষ্টির পর থেকেই মানুষ একে অপরের উপর প্রভাব বিস্তার করে এসেছে বুদ্ধি এবং শক্তি প্রয়োগ করে। প্রাচীন কালে মানুষ বুদ্ধির প্রয়োগ ছাড়াই বর্বর ভাবে একের পর এক শহর জনপদ ধ্বংস করে গেছে নিজের শক্তিকে জাহির করতে। মধ্যযুগের মানুষ ঠিক করলো শক্তি পরীক্ষার জন্য শহর জনপদ ধ্বংস না করে নির্দিষ্ট স্থানে বা প্রান্তরে যুদ্ধ করে শক্তি পরীক্ষায় পাশ করলেই যুদ্ধের ফলাফল চলে আসবে। আর বর্তমান আধুনিক যুগে মানুষ নিজেদের বুদ্ধি এবং শক্তি পরীক্ষার জন্যে একটি মাঠে জড় হয় ঠিকই কিন্তু অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করতে নয়, বরং বুদ্ধি ও শক্তির কৌশল দিয়ে একে অপরকে পরাজিত করে চলছে বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে।নিজেদের বুদ্ধি ও শক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে ফুটবল এমন একটি খেলা যা পৃথিবীর প্রতিটি দেশে জনপ্রিয়। ফিফা বিশ্বকাপ মূল আসরে দেখা যায় রাষ্ট্র প্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতি উৎসাহ উদ্দীপনা যাতে নিজেদের দল সেরাটা দিতে পারে। আমাদের উপমহাদেশের কোন দেশের এখন পর্যন্ত সুযোগ আসে নাই ফিফা মূল আসরে অংশ গ্রহণের। বাংলাদেশের ব্যাপার টি একটু ভিন্ন রকম কেননা এখানকার জনগণের মধ্যে ফুটবল নিয়ে এমন ইমোশন তৈরি হয় তা সবার জানা আর পশ্চিমা বিশ্বে তা বেশ আলোচিত। মানুষের এই ইমোশন কে পজিটিভ ভাবে কাজে লাগিয়ে প্রত্যেক ফুটবল প্রেমিক মানুষদের একত্রিত করে করা যেতে পারে একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমীর যেখান থেকে শুরু হবে ফুটবলের বিশ্ব জয়ের আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন। প্রশ্ন আসতে পারে মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে একাডেমী তৈরী করলেই যদি সাফল্য আসতে পারে তবে চায়না বা ইন্ডিয়ার মত ধনী ও বড় দেশ এ পর্যন্ত ফিফা মূল আসরে খেলতে পারল না কেন? এই প্রশ্নের অনেক উত্তর থাকতে পারে তবে এটা ঠিক যে লক্ষাধিক ফুটবলারদের মধ্য থেকে মেসি, নেইমার, লুকা মদরিচের মত খেলোয়াড় তৈরী হয় হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। এই সব খেলোয়াড়রা শিশু কাল থেকেই ফুটবলকে নেশার মত মনে করেছেন যা নেশা থেকে তাদের পেশায় পরিনত হয়েছে।ফুটবল একাডেমী করার জন্য তাই প্রয়োজন সঠিক ফুটবলার বাছাই যারা একাডেমিক ট্রেনিং থেকে সর্বোচ্চ লাভবান হয়ে নিজেদের গড়তে পারবে । তাড়াহুড়া করে এই ফুটবলার বাছাই কাজটি অনেকটা আম কাঠ দিয়ে অনেক খোদাই করা ডিজাইনের আসবাবপত্র বানিয়ে উচ্চ মূল্য পাওয়ার আশা করার মত । তাই শুরু থেকেই সোর্সিং অব্যাহত রাখা সেরা চারা গাছের সন্ধান যা থেকে সেরা কাঠ পাওয়া যাবে এবং তৈরী হবে আন্তর্জাতিক মানের আসবাবপত্র। এই দূর্লভ চারা গাছের সন্ধানে দেশের যত মানুষ অংশ গ্রহণ করবে, ততোই সহজ হবে পুরা প্রক্রিয়াটি সারা বছর অব্যাহত রাখার । একাডেমির নিজস্ব কোচ দিয়ে বিভিন্ন প্রাইমারী ও হাইস্কুল লেভেলে দুই দিনের একটি ট্রেনিং করা যেতে পারে যেখানে প্রতিভাবান শিশু ফুটবলার হান্টিং হবে। আশা করা যায় ৫০০ স্কুল হান্ট করলে ৫০ জন কাঙ্খিত শিশু ফুটবলার পাওয়া যাবে এবং তাদের নিয়ে শুরু হবে ফুটবলার হান্ট একাডেমীর ক্রিয়েটিভ কোচের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির অনুশীলন আর অনুশীলন। আশা করি সবাই একমত হবেন আমাদের এই খসড়া পরিকল্পনা যা সবার মতামত নিয়ে আরো সমৃদ্ধ করা হবে। আমাদের এই স্বপ্ন এখন সবার স্বপ্নে পরিনত করা প্রয়োজন ‘২০৩০ সালে বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিত হোক ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে অংশ গ্রহণ’।
নিম্নে কিছু টু ডু লিস্ট দিতে চাই।বাংলাদেশে ফুটবলের ওপর একটা বৃহৎ প্লাটফর্ম তৈরী করতে হবে ফুটবল প্রেমিক ভাই বোনদের নিয়ে, যাদের স্বপ্ন থাকবে ফুটবলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাম পৃথিবীর মাঝে নূতন করে ছড়িয়ে দেওয়া। কথায় বলে “একের বোঝা দশের লাঠি ” প্রবাদ বাক্যটির মত পরিকল্পনা করা যেতে পারে সর্বাচ্চ সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে ফুটবলার হান্ট একাডেমীর কার্যক্রমে সংযুক্ত থেকে,২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার মূল পর্বে অংশগ্রহণ করতে সর্বাধিক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।যেহেতু অনেক বেশী সদস্য,তাই – একটি প্রধান নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে সব সদস্যের সমন্বয়ে ইন্টারনেট ভোটের ব্যবস্থার মাধ্যমে ১- ২০ জনের উপদেষ্টা মন্ডলী থাকবে যারা এই একাডেমীর কার্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপর নজর রাখবেন এবং বছরের শেষে সর্বোচ্চ তিনজন সম্ভাব্য সভাপতির নাম সিলেক্ট করে ওয়েব সাইটে দিয়ে দেওয়া হবে এবং সেই সাথে গত এক বছরের একাডেমীর প্রতি তাদের অবদান নিয়ে আর্টিকেল লেখা হবে যাতে করে ভোটের সময়ে সবার সুবিধা হয়, যোগ্য প্রধান নির্বাহীকে নির্বাচন করতে।
-প্রতি বছরই এই ভোটের মাধ্যমে প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত হবেন এবং পর পর কেহই দুই বছর এই পদে থাকতে পারবেন না বলে আইন করা হবে। এতে গণতান্ত্রিক উপায়ে একাডেমী পরিচালনার জন্য সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে যখন ৯৯৯৯৯৯ সদস্য পূর্ণ হবে, তখন একাডেমী সদস্য ফি থেকে একশো কোটি টাকা হতে পারে যদি সদস্য ফী মাত্র এক হাজার টাকা করা হয়। এই অর্থ দিয়ে একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের জন্য সুন্দর একটি ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরী করা সম্ভব হবে।এই কর্মসূচি করতে একটি ডাইনামিক ওয়েব সাইট তৈরি করতে হবে যেখানে থাকবে প্রতি সদস্যদের ক্রমিক নাম্বার (সিক্স ডিজিট), নাম এবং মোবাইল নং থাকবে যাতে করে যে কেহ সদস্য ফী প্রদানের পর তার সদস্য পদ নিশ্চিত করতে পারেন,ওয়েব সাইটে নিজেদের নাম ও ক্রমিক নাম্বার দেখে।
– এই ওয়েবসাইট থেকে প্রত্যেক সদস্য একাডেমীর বর্তমান পরিস্থিতি সহজেই জানতে পারবেন। তাই আসুন, আমরা সকলে মিলে শুরু করি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য একটা বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে বাংলাদেশের জন্য একটি সুন্দর উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি । দেশর সকল ফুটবল প্রেমিক মানুষদের একত্র হয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান করার জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি আমরা ফুটবলার হান্ট একাডেমীর পক্ষ থেকে, রহমান মৃধা ও সামসুদ্দিন সুমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close