রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে আহত ১৩…. হাদিসের গল্পঃ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক…. ফেনীতে সংখ্যালঘুরা হামলা বা নির্যাতনের স্বীকার হলে,নির্যাতন কারীদের জায়গা ফেনীর মাটিতে হবেনা-নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি…. ফেনী র‍্যাব-৭ এর একিদিন চালানো দুটি অভিযানে অস্ত্র গুলি ও মাদক উদ্ধার সহ আটক-৩…. কালীগঞ্জে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক…. ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার…. রংপুর শহরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত… চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২…. ফেনীর দাঘনভূঞাঁয় বিএনপি’র ৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা… ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ….
ছাগলনাইয়ায় মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে সরকার দলীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বলী হলো ইউপি চেয়রম্যান….

ছাগলনাইয়ায় মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে সরকার দলীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বলী হলো ইউপি চেয়রম্যান….

সৈয়দ কামাল,ফেনী জেলা প্রতিনিধিঃফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বটতলী বাজার সংলগ্ন জয়নগর গ্রামের কালু চৌধুরীর পুত্র,ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক,আবুল কালাম মাষ্টারের ঘরথেকে ২৯ আগষ্ট সন্ধার পর তার মোবাইল চুরি হয়।মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে ৩০ আগষ্ট সন্ধায় সন্দেহের ভিত্তিতে কালাম মাষ্টার দুই যুবককে বাড়ীথেকে ডেকে এনে বটতলী বাজারে পিটিয়ে এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলেদেন।সন্দেহের ভিত্তিতে এইভাবে বাড়ীথেকে ডেকে এনে চোর ও মাদকসেবী বলে মেরে একজনকে পুলিশে দেওয়ায়,ঐ এলাকার মানুষ কালাম মাষ্টারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ৩১ আগষ্ট সন্ধায় সরকার দলীয় এক নেতার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে,মাটিয়া গোদা গ্রামথেকে দলে দলে লোকজন বটতলী বাজারে এসে কালাম মাষ্টারকে খুঁজে না পেয়ে,বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বাজারের দক্ষিণ পাশে তার বাড়ীতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালানোর পূর্বেই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।স্থানীয় একাধীক এলাকাবাসী চুরির ঘটনা নিয়ে গত তিনদিন যাবত ঐ এলাকায় একের পর এক ঘটতে থাকা ঘটনার বিষয় একএকজন একএক দরণের বর্ণনা দিচ্ছেন।কালাম মাষ্টার যে,দুই যুবককে সন্দেহ করে মারধর করেছে তারাহল একই ইউনিয়নের মাটিয়া গোদা গ্রামের সালাউদ্দিন মামুন ও জয়নগর গ্রামের মোঃফারুক।কেউ বলছেন এই দুই যুবককে কালাম মাষ্টারের সন্দেহ করার কারণ।মোবাইল চুরি হওয়ার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টা কি ৯ টার সময় কালাম মাষ্টারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নির্মাণাধীন ঘরের সাথে এটাষ্ট বাতরুমে গেলে বাতরুমের বেন্টিলেটার দিয়ে কে বা কাহাকে উঁকি মারতে দেখে মেয়েটি চিৎকারদিয়ে,ঘরে গিয়ে তার পিতা কালামকে বিষয়টি জানায়।সাথে সাথে কালাম মাষ্টার ঘরথেকে বেরহয়ে রাস্তায় এসে তার বাড়ীর দিগথেকে কেউ বের হয়েছে কিনা দোকানদারদেরকে জিজ্ঞেস করলে দুই একজন মামুন ও ফারুক নামে দুই যুবককে রাস্তায় একসাথে দেকেছে বলে তাকে জানান।এই দুই যুবক এলাকায় বখাটে গাঁজাসেবী হিসেবে পরিচিত।দোকানদারদের দেখেছে বলার সূত্র ধরেই কালাম মাষ্টার ঐ দুই যুবককে ৩০ আগষ্ট তাদের অভিবাবক দ্বারা বাড়ীথেকে ডেকে বটতলী বাজারে এনে,তার মোবাইল চুরি ও বাতরুমে উঁকি মারার বিষয় জিজ্ঞেস করলে তারা এই বিষয় কিছু জানেনা বলে জানান।তবে তারা রাস্তায় গাঁজা সেবনের বিষয় স্বীকার করেছে।কালাম মাষ্টার যুবক দুটির কোন কথা বিশ্বাস না করে তার মোবাইল চুরি ও ঘরে উঁকি মারার সন্দেহাতীত অপরাধী হিসেবে প্রকাশ্যে জনতার সামনে বেদড়ক মারধর করে,সালাউদ্দিন মামুন নামে যুবকটিকে পুলিশে দিয়ে দেন।সন্দেহাতীত ভাবে দুই যুবককে বাড়ীথেকে ডেকে এনে এইভাবে প্রকাশ্যে জনতার সামনে মারধর করায়,এলাকা বাসীর মধ্যে কালাম মাষ্টারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদী হয়ে উঠে মহামায়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনের কাছেযায়।মামুন এলাকাবাসীর সাথে একাত্বতা ঘোষণাকরে ৩১ আগষ্ট সন্ধায় স্বদলবলে বটতলী বাজারে এসে কালাম মাষ্টারকে খুঁজে না পেয়ে তার বাড়ীতে হামলা চালানুকালে পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেন।

    এই ঘটনার সূত্রধরে ঘটনার দিন ৩১ আগষ্ট রাতে ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বটতলী বাজারে আসেন।উপজেলা চেয়ারম্যান আসার উদ্দেশ্য কালাম মাষ্টারের বাড়ীতে হামলার পরিকল্পনায় নিজ দলীয় কারা জড়িত ছিলো তাদের নামের তালিকা তৈরীকরে,তাদেরকে দলথেকে বহিষ্কার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য।এই বিষয় মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যান গরীব শাহ হোসেন চৌধুরী বাদশাকে নিয়ে বটতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিসে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে নিয়ে আসা ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।এই সময় কালাম মাষ্টার সহ দলীয় একাধীক ব্যাক্তি হামলায় জড়ীত থাকার অভিযোগ করে বিভিন্ন লোকের নাম বলছিলেন,আর উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের নাম লিখছিলেন।এক পর্যায় জাসদ থেকে সদ্য দলে যোগদানকারী মাটিয়া গোদা গ্রামের আবদুল জলিল নামের এক ব্যাক্তির নাম বল্লে,ইউপি চেয়ারম্যান গরীব শাহ লোকটি এই ঘটনায় জড়ীত ছিলোনা বলে তার নাম লিকতে নিষেধ করলে,উপজেলা চেয়ারম্যান তা না শুনে লোকটির নাম লিখলে,গরীব শাহ বৈঠক থেকে উঠে চলে যাচ্ছিল দেখে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আসা নেতাকর্মীরা গরীব শাহকে তার ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে চড় থাপ্পড় মেরে গলা ধাক্কাদিয়ে চেয়ারে বসীয়ে দিতে চাইলে,তখন দলীয় অফিসে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলেযাচ্ছে দেখে তাৎক্ষণিক উপজেলা চেয়ারম্যান তার সাথে নিয়ে যাওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মহামায়া থেকে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরে চলে আসেন।ইউপি চেয়ারম্যান গরীব শাহকে মারধরের ঘটনা নিয়ে বর্তমানে মহামায়া ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


সংবাদটি ফেজবুকে সেয়ার করুন


© All rights reserved © ২০১৭-২০১৮ দৈনিক সময়. কম
Design & Developed BY দৈনিক সময়
Translate »